বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী সম্প্রতি অভিযোগ করেছেন যে রাষ্ট্রপতি শেখ হাসিনাকে পুনর্বাসিত করার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, “রাষ্ট্রপতি তো শেখ হাসিনাই দেওয়া। ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। রাষ্ট্রপতি এখন শেখ হাসিনার অনুগামী হয়ে কথা বলছেন।” এই মন্তব্যগুলো তিনি সোমবার ঢাকার আশুলিয়ায় পুলিশ গুলিতে শহীদদের পরিবারকে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদানের অনুষ্ঠানে করেন।
রিজভী অভিযোগ করেছেন যে রাষ্ট্রপতি শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র পাননি বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি তুলনা করেন, “যে স্ত্রী স্বামীকে ছেড়ে অন্য লোকের কাছে চলে যায়, সে কি ডিভোর্স লেটার দিয়ে যায়নি?” তিনি বিশ্বাস করেন যে শেখ হাসিনা পদত্যাগপত্র দিয়েছেন, কিন্তু রাষ্ট্রপতি তা স্বীকার করছেন না। তিনি রাষ্ট্রপতিকে আওয়ামী লীগের দায়িত্ব পালনে বেশি আগ্রহী বলে মন্তব্য করেছেন।
রিজভী আরও বলেন, “হাজার হাজার ছাত্র-জনতাকে হত্যা করেও শেখ হাসিনার কোনো অনুশোচনা নেই। তিনি হিংস্র মানসিকতা নিয়ে রাজনীতি করছেন।” তিনি বিএনপির পক্ষ থেকে শহীদ পরিবারের সদস্যদের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে বলেন, “স্বৈরাচারের দোসররা নানা জায়গায় আছে। তারা জনগণের ওপর অত্যাচার করতে প্রস্তুত।”
তিনি সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন যে, গুলি চালিয়ে যারা ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমন করেছে তাদেরকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না। তিনি বর্তমান সরকারের সংস্কারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন দিতে হবে। নির্বাচিত সরকার পুরো রাষ্ট্র সংস্কার করবে।”
রিজভী বলেন, “আমরা অল্প কিছু ড্রাইভ দেখতে পাচ্ছি, কিন্তু ব্যাপক ড্রাইভ দেখতে পাচ্ছি না।” তিনি দ্রব্যমূল্য কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
“আমরা বিএনপি পরিবার” নামে একটি সংগঠন শহীদ ও আহতদের পাশে থাকার জন্য কাজ করছে। রিজভী জানান, এই সংগঠনের সদস্যরা বিভিন্ন পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং তাদের সহায়তা প্রদানের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, “ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নিহত ও আহতদের সহায়তা দেওয়া আমাদের দায়িত্ব।”
তিনি সমগ্র রাজনৈতিক পরিস্থিতির জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করে বলেন, “গণহত্যার দায়ে আওয়ামী লীগের মন্ত্রী এমপি ও নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।” এই সময়ে তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যাতে তারা সচেতন থাকে এবং আওয়ামী লীগের পদক্ষেপগুলোর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যায়।
রিজভীর এই বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এক নতুন আলোচনার সূচনা করেছে, যেখানে বিএনপি জনগণের সমর্থন ফিরে পেতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।


