জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) রাজস্ব ঘাটতি মোকাবিলায় সম্প্রতি শতাধিক পণ্যের ওপর ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক বাড়িয়েছে। তবে এতে মূল্যস্ফীতি আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে ফল, জামাকাপড় ও বেকারি পণ্যের ওপর নতুন করে বাড়তি কর আরোপ করায় সাধারণ জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যাবে বলে মনে করছেন তারা।
এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বর পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৪২ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি রয়েছে। এই ঘাটতি পূরণের সহজ উপায় হিসেবে বিভিন্ন পণ্যে ভ্যাট বাড়ানো হয়েছে, যদিও কিছু ক্ষেত্রে পরে তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, এভাবে পরোক্ষ কর বাড়ানোর চেয়ে প্রত্যক্ষ কর বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত। বাংলাদেশ অ্যাগ্রো প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশনের (বাপা) সভাপতি এম এ হাশেম বলেন, ‘‘ভ্যাট ও কর বৃদ্ধির ফলে ব্যবসা কমে যাবে, যা শেষ পর্যন্ত রাজস্ব আদায়েই নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সরকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা না করেই একতরফাভাবে এসব সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।’’
সুপারশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বলেন, ‘‘সরকার বারবার ভ্যাট বাড়াচ্ছে, কিন্তু এতে জনগণের ওপর চাপ আরও বাড়ছে। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা সীমিত হয়ে আসছে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।’’ তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তারাও ভ্যাট ও কর ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘‘ভোজ্যতেলসহ আমদানিকৃত পণ্যের সঠিক তথ্য সরকারের কাছে না থাকার কারণে বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হচ্ছে।’’
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘‘সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকায় বাজার ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনা সম্ভব হচ্ছে না। এটি ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের জন্যই ক্ষতিকর হচ্ছে।’’ ব্যবসায়ীরা মনে করেন, সরকারের উচিত কর কাঠামো পুনর্বিবেচনা করা এবং পরোক্ষ করের চেয়ে প্রত্যক্ষ কর বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দেওয়া। এছাড়া নীতিনির্ধারকদের উচিত বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া।


