বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য খাতে দীর্ঘমেয়াদি মন্দা দেখা দিয়েছে। উদ্যোক্তারা বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে ঋণের সুদহার বৃদ্ধি, ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট, টাকার মান অবমূল্যায়ন এবং গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট। এর ফলে নতুন শিল্প স্থাপনের সম্ভাবনা কমে গেছে এবং বিদ্যমান শিল্পগুলোও টিকে থাকার লড়াই করছে। সম্প্রতি গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব নতুন সংকট তৈরি করেছে। উদ্যোক্তারা বলছেন, গ্যাসের দাম বাড়লে উৎপাদন খরচ আরও বৃদ্ধি পাবে এবং পণ্যের দামও বাড়বে। তবে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে শিল্প খাতের পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হতে পারে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, দেশে মূল্যস্ফীতি এখনো ডাবল ডিজিটে রয়েছে। ২০২২ সালের আগস্ট থেকে মূল্যস্ফীতির হার ৯ শতাংশের উপরে থাকলেও গত ডিসেম্বর মাসে তা কিছুটা কমে ১০.৮৯ শতাংশে নেমেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতকালীন সবজির সরবরাহ বৃদ্ধির কারণে সাময়িকভাবে মূল্যস্ফীতি হ্রাস পেলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হবে। দেশের শিল্প খাতেও বিনিয়োগ হ্রাস পেয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বরে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ১.৪১ শতাংশে নেমে এসেছে। বেসরকারি খাতে ঋণের সুদহার বাড়ায় উদ্যোক্তারা নতুন ঋণ নিতে আগ্রহী নন। এর ফলে নতুন শিল্প স্থাপন ও সম্প্রসারণে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
এছাড়া শিল্পের যন্ত্রপাতি ও মধ্যবর্তী কাঁচামাল আমদানিও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। ফলে দেশীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো কার্যক্রম চালিয়ে নিতে কঠিন সময় পার করছে। দেশে বেকারত্ব পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। বেসরকারি খাত কর্মসংস্থানের মূল উৎস হলেও বিনিয়োগ সংকটে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে না। ফলে শ্রমবাজারে নতুন প্রবেশকারী কর্মসংস্থান না পেয়ে বেকার বা নিম্নমানের কর্মে যুক্ত হচ্ছে।


