বাংলাদেশের পুনর্গঠনে আন্তরিক সহযোগিতা প্রদানের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন বিশ্বব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আন্না বিয়ার্দে। বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সম্মেলনের ফাঁকে তিনি এই প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে এক বৈঠকে এ বিষয়টি আলোচিত হয়। প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার জানিয়েছেন, বৈঠকের সময় আন্না বিয়ার্দে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম এবং সংস্কার উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রচেষ্টায় আমরা সবসময় পাশে আছি। আপনারা আমাদের সহযোগিতার জন্য নির্ভর করতে পারেন।”
বিশ্বব্যাংকের পরিচালক আরও উল্লেখ করেন যে, তারা বছরের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশে আর্থিক সহায়তা এবং বিভিন্ন প্রকল্পে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে প্রস্তুত। এই সহায়তার লক্ষ্য হবে দেশের পুনর্গঠনে গতি আনা এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা। বৈঠকে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, জুলাই মাসের অভ্যুত্থানের পরবর্তী অবস্থা, এবং অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহীত সংস্কারমূলক পদক্ষেপগুলো নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা হয়। আন্না বিয়ার্দে এসব বিষয়ে তার ইতিবাচক মূল্যায়ন তুলে ধরে বলেন, “সংস্কার উদ্যোগগুলো কেবল বাংলাদেশের জন্য নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার সামগ্রিক উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।”
এই বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ এবং জেনেভায় বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি তারেক আরিফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের মধ্যে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে একমত হন উভয় পক্ষ। বিশ্বব্যাংকের এই প্রতিশ্রুতি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে। দেশীয় অর্থনীতিকে পুনর্গঠন ও স্থিতিশীল করার লক্ষ্যে এটি অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য শক্তিশালী সমর্থন হিসেবে কাজ করবে। বিশ্বব্যাংকের সহায়তার ওপর নির্ভর করে বাংলাদেশ তার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।


