ভোক্তাদের দীর্ঘদিনের হতাশা কাটিয়ে বাজারে ফিরেছে স্বস্তি। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে আলু ও পেঁয়াজের দামে কমতি লক্ষ্য করা গেছে। সরবরাহ বৃদ্ধি ও সরকারের বাজার নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের ফলে এ পরিবর্তন এসেছে। কেরানীগঞ্জ, নয়াবাজার, ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, নতুন আলুর দাম এখন প্রতিকেজি ২০-২৫ টাকায় নেমেছে। পাইকারি পর্যায়ে যা ১৮-২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক মাস আগেও আলুর দাম ছিল ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। সরকারি বিপণন সংস্থা টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, এক মাসে আলুর দাম কমেছে প্রায় ৫৪ শতাংশ।
বাজারে নতুন আলুর সরবরাহ বৃদ্ধি ও আমদানি সহজ করায় এ পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে। আড়তদাররা বলছেন, সরবরাহ পর্যাপ্ত হওয়ায় আড়তে আলুর দাম নেমে এসেছে ১৬ টাকায়। গত মাসে যা ছিল অনেক বেশি। এক ক্রেতা জানান, “দীর্ঘদিন পর আলুর বাজারে এমন স্বস্তি পেলাম। এখন পরিবার নিয়ে সাশ্রয়ীভাবে বাজার করা সম্ভব।”পেঁয়াজের দামও ধীরে ধীরে কমছে। মুড়িকাটা পেঁয়াজ বর্তমানে প্রতি কেজি ৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। ভারতীয় আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬৫-৭০ টাকায়। টিসিবি জানিয়েছে, দেশি পেঁয়াজের দাম গত মাসে ৪৫ শতাংশ ও আমদানি করা পেঁয়াজের দাম ২৩ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।
পেঁয়াজ বিক্রেতারা জানান, দেশি মুড়িকাটা পেঁয়াজের পাশাপাশি ভারতীয় পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়ায় দাম নিয়ন্ত্রণে এসেছে। কারওয়ান বাজারের খলিল উদ্দিন বলেন, “পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় পেঁয়াজের দাম অনেকটাই স্থিতিশীল। পাইকারি পর্যায়ে দেশি পেঁয়াজ ৩৮-৪০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।” এ পরিস্থিতি ক্রেতাদের জন্য বড় স্বস্তি বয়ে এনেছে। অনেকেই মনে করছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক রাখলে এবং নিয়মিত বাজার মনিটরিং করলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা সম্ভব।


