দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বাংলাদেশ টেলিভিশনের জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলী মো. মনিরুল ইসলামকে একটি বড় অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে ৬ নভেম্বর দুপুর ১২টায় সেগুনবাগিচায় দুদকের কার্যালয়ে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে।
এই ঘটনায় দুদক জানায়, ২০২২ সালের ১৫ মে বাংলাদেশ টেলিভিশনের প্রধান প্রকৌশলী এবং প্রকল্প পরিচালক মুনির আহমেদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে যে, মুনির আহমেদ বিভিন্ন উপকেন্দ্রের কাজ সম্পন্ন না করিয়েও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কোয়ালিটি পাওয়ার টেক ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডকে ৪০ লাখ ১৫ হাজার ৮৬৩ টাকা বিল দেওয়ার মাধ্যমে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।
দুদকের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ জাফর সাদেক শিবলীর নেতৃত্বে পরিচালিত একটি এনফোর্সমেন্ট টিম অভিযানে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। তলবি নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ঠিকাদার সঠিকভাবে কাজ সম্পন্ন না করলেও প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি ঘুষের বিনিময়ে পুরো বিল প্রদান করেন।
এ ধরনের অভিযোগ তদন্তে দুদক উল্লেখ করে যে, দেশে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে এবং এ ধরনের ঘটনাগুলোর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ টেলিভিশন প্রকল্পে ঘটে যাওয়া এই দুর্নীতির অভিযোগ একটি বড় ধরনের সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে এবং এটি সরকারি প্রকল্পগুলোতে সচ্ছতা ও দায়বদ্ধতার ওপর প্রশ্ন উঠিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারী প্রকল্পগুলোর কার্যকরী সম্পাদন এবং সঠিক তত্ত্বাবধানের অভাব অনেক সময় এই ধরনের দুর্নীতির দিকে পরিচালিত করে। অতএব, এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
দুদকের এ ধরনের পদক্ষেপে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি ইতিবাচক বার্তা যাচ্ছে, যে দুর্নীতি প্রতিরোধে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। এই অভিযানের ফলে বাংলাদেশের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে দুর্নীতি কমানোর সম্ভাবনা বেড়ে গেছে এবং প্রকল্প পরিচালকদের কাছে একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।
প্রথম দিকে আংশিক বিল প্রদানের পর, প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব নেওয়ার পর কেন পুরো বিল দেওয়া হলো, এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে মনিরুল ইসলামের বক্তব্য প্রয়োজন বলে জানিয়েছে দুদক। এখন অপেক্ষা এ বিষয়ে তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপের।


