বাংলাদেশের শ্রমবাজারে নতুন এক সম্ভাবনা উন্মোচিত হয়েছে, কারণ ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলো বাংলাদেশ থেকে দক্ষ জনবল নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সোমবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-ইইউ যৌথ কমিশনের ১১তম বৈঠকে এই আগ্রহের কথা জানানো হয়। ইইউ প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী নেতৃত্ব দেন।
বৈঠকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশি জনশক্তি নেয়ার আগ্রহের কথা উঠে আসে, যেখানে প্রায় ১০টি খাতে দক্ষ জনবল প্রয়োজন। সরকারের পক্ষ থেকে একটি রোডম্যাপ তৈরি করা হচ্ছে, যা বৈধপথে জনশক্তি পাঠানোর বিষয়ে দুই পক্ষের সম্মতিতে প্রকাশিত হবে। বর্তমানে জার্মানি, ইতালি, গ্রিস এবং রোমানিয়া বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি নিতে আগ্রহী। চিহ্নিত অগ্রাধিকার খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে আইসিটি, কেয়ারগিভিং, নির্মাণশিল্প, ট্যুরিজম ও হসপিটালিটি, কৃষি, এবং তৈরি পোশাকশিল্প।
এছাড়া, বৈঠকে এলডিসি গ্রাজুয়েশনের পরও বাংলাদেশের জন্য ইউরোপীয় বাজারে জিএসপি সুবিধা বজায় রাখার বিষয়েও আলোচনা হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়েছে, তারা বহুপাক্ষিক উদ্যোগের মাধ্যমে মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
বৈঠকে নারী, শিশু এবং সংখ্যালঘুদের মানবাধিকার রক্ষায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। ইইউ, বাংলাদেশে মানবাধিকার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের সংস্কার কার্যক্রমে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এছাড়া, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) আইনি কাঠামো উন্নত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেছে ইইউ।
বাংলাদেশের পক্ষে বৈঠকে ইইউ প্রতিনিধিদের কাছে জিএসপি নীতির সংশোধন নিয়ে কিছু দাবি উত্থাপন করা হয়, বিশেষ করে নতুন (খসড়া) জিএসপি স্কিম এবং সুরক্ষা ধারাগুলো সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়, যেন বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ সব পণ্য জিএসপি প্লাস সুবিধা পেতে পারে।
২০২২ সালের এপ্রিল মাসে ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ প্রোগ্রাম ঘোষণা করে ইইউ, যেখানে বাংলাদেশসহ সাতটি দেশকে দক্ষ শ্রমিক পাঠানোর জন্য বিবেচনা করা হয়। এভাবে, বাংলাদেশ থেকে ইউরোপে দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর সুযোগ আরও বৃদ্ধি পাবে।


