ছোটবেলায় বাবাকে হারিয়েছিলেন, এরপর মা’র হাত ধরে এসেছিলেন ঢাকায়। জীবনের নানা ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে গড়ে তুলেছিলেন একটি স্বপ্ন, একটি সংসার। সেই স্বপ্নভবন আজ চুরমার। ঢাকা মিটফোর্ড এলাকায় চাঁদার দাবিতে নির্মমভাবে পাথর মেরে হত্যা করা হয়েছে ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে।
৪০ বছর বয়সী সোহাগের শৈশব কেটেছে দারিদ্র্য ও সংগ্রামে। তার বয়স যখন মাত্র সাত মাস, বজ্রপাতে মারা যান বাবা আইউব আলী। এরপর মা আলেয়া বেগম তিন সন্তানকে নিয়ে জীবিকার তাগিদে ঢাকায় চলে আসেন। বড় হয়ে সোহাগ মিটফোর্ড এলাকায় ‘মেসার্স সোহানা মেটাল’ নামে একটি দোকান দেন। পরিশ্রম আর সততায় প্রতিষ্ঠা পেয়েছিলেন স্থানীয়দের কাছে।
তবে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী তার কাছে মাসে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছিল। তিনি রাজি না হওয়ায় চলতে থাকে হুমকি ও দোকান দখলের চেষ্টা। শেষ পর্যন্ত সেই গোষ্ঠী গত বুধবার বিকেলে তাকে বাসা থেকে ডেকে নেয়। চাঁদার টাকা না দেওয়ায় তাকে আটকে রেখে বর্বরভাবে নির্যাতন করা হয় এবং পাথর দিয়ে হত্যা করা হয়।
শুক্রবার সকালে তার লাশ ঢাকা থেকে বরগুনার ইসলামপুর গ্রামে এনে মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হয়। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে চারপাশ। ১৪ বছর বয়সি কন্যা সোহানা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলে, “আমরা এখন কোথায় গিয়ে দাঁড়াবো?” – এই একটি প্রশ্নেই যেন ফুটে ওঠে একটি নিঃস্ব পরিবারের করুণ পরিণতি।
নিহতের স্ত্রী লাকি বেগম বলেন, “চাঁদা না দেওয়ায় ওদের রাগে আগুন জ্বলছিল। একবার দোকান বন্ধও করে দিয়েছিল। শেষে আমার স্বামীকে হত্যা করেও ক্ষান্ত হয়নি—মৃতদেহেও চালিয়েছে পাথরের আঘাত। আমি এই নরপশুদের বিচার চাই।”
পরিবারের দাবি, হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক, যাতে আর কোনো পরিবার সোহাগের পরিবারের মতো অসহায় না হয়।


