রাজধানীর মিটফোর্ডে ব্যবসায়ী সোহাগ হত্যার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। র্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) এ কে এম শহিদুর রহমান জানিয়েছেন, অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় নয়, তাদের অপরাধই আমাদের কাছে মুখ্য বিষয়। তিনি বলেন, “অপরাধী যেই হোক, কোনো ছাড় নেই। আমরা আইনের আলোকে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
শনিবার (১২ জুলাই) দুপুরে কাওরানবাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
র্যাব প্রধান জানান, গ্রেফতার পাঁচজনের মধ্যে দুইজনকে র্যাব এবং বাকি তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি বলেন, “আমরা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশকে (ডিএমপি) ছায়া তদন্তের মাধ্যমে সহযোগিতা করছি। যারা এই হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে জড়িত, তাদের সবাইকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।”
তিনি দেশবাসীর উদ্দেশে বলেন, “কোনো নাগরিক যেন মব ভায়োলেন্স বা গণপিটুনিতে জড়িত না হন, এজন্য আমরা বারবার সতর্ক করছি। আইন হাতে তুলে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”
চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও সহিংসতা প্রতিরোধে চলমান অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “৫ আগস্টের পর থেকে র্যাবের নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। ফলে রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেছে। সামনে নির্বাচন, সেই সময়ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে র্যাব মাঠে থাকবে।”
মিটফোর্ডের ঘটনা প্রসঙ্গে বলা হয়, ৯ জুলাই হাসপাতালের সামনের সড়কে একদল যুবক প্রকাশ্যে পাথর দিয়ে ব্যবসায়ী সোহাগকে পিটিয়ে হত্যা করে। নিহতের বোন বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) কোতোয়ালি থানায় ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ১০-১৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
র্যাব ডিজি আরও বলেন, “অপরাধী কোনো দলের, সংগঠনের বা প্রভাবশালীর ছত্রছায়ায় থাকলেও, আইন সবার জন্য সমান। আমরা জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি।”


