বাংলাদেশে আবারও পূর্ণ মাত্রায় বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করেছে ভারতের আদানি পাওয়ার লিমিটেড। বেশ কিছুদিন আংশিক সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ার পর বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (বিপিডিবি) নিয়মিত অর্থ পরিশোধ করায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে।
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুসারে, বিপিডিবির চেয়ারম্যান রেজাউল করিম জানিয়েছেন, বাংলাদেশ এখন আদানিকে নিয়মিত অর্থ পরিশোধ করছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিদ্যুৎ গ্রহণ করছে। এর আগে, অর্থ পরিশোধের অনিয়মের কারণে আদানি পাওয়ার ভারতের ঝাড়খণ্ডের ১,৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছিল।
২০২৩ সালে বাংলাদেশ-আদানি চুক্তির আওতায় বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়। তবে ২০২৪ সালের শেষের দিকে বিপিডিবি নির্দিষ্ট সময়মতো অর্থ পরিশোধ করতে না পারায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বাধা সৃষ্টি হয়। এর ফলে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ ঘাটতির মুখে পড়ে, বিশেষ করে শিল্প ও আবাসিক খাতে।
গত বছরের নভেম্বর মাসে আদানি পাওয়ার বিদ্যুৎ সরবরাহ ৫০ শতাংশ কমিয়ে দেয়। বিপিডিবি তখন জানিয়েছিল, শীতকালীন মৌসুমে বিদ্যুতের চাহিদা কম থাকায় তারাও সরবরাহ কমানোর অনুরোধ করেছিল। তবে গ্রীষ্মের শুরুতে তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি পায়, যা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঝুঁকি তৈরি করেছিল।
বর্তমানে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধারের ফলে বাংলাদেশে শিল্প, ব্যবসা এবং সাধারণ গ্রাহকদের জন্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিপিডিবির সূত্র জানায়, আদানির কাছে ঋণের পরিমাণ একসময় ৮৫০ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল, যা এখন ৮০০ মিলিয়ন ডলারে নেমেছে। এই ঋণ আগামী ছয় মাসের মধ্যে পরিশোধের পরিকল্পনা রয়েছে।
ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, বিপিডিবি আদানি পাওয়ারের ঋণদাতাদের আশ্বস্ত করতে গ্যারান্টি প্রদান করেছে, যা কোম্পানির কার্যকরী মূলধন সংকট কমাতে সহায়ক হবে। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্কও শক্তিশালী হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে ভবিষ্যতে সময়মতো অর্থ পরিশোধ এবং বিকল্প বিদ্যুৎ উৎস নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন।


