বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (বেপজা) কর্তৃপক্ষকে দেশের শিল্প খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশকে আরও দৃশ্যমান করতে আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। সোমবার ঢাকার তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল আবুল কালাম মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদন জমা দেন।
প্রতিবেদন গ্রহণকালে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “বিশ্বের বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের সম্ভাবনা তুলে ধরতে অর্থনৈতিক কূটনীতির একটি শক্তিশালী টিম গঠন করুন। প্রয়োজনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করুন।” তিনি বিশেষভাবে বিদেশে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বিনিয়োগ প্রচারণায় যুক্ত করার পরামর্শ দেন। “বিশেষত চীন ও জাপানে থাকা শিক্ষার্থীরা ভাষাগত সহায়তা প্রদান করতে পারে, যা বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে,” বলেন প্রধান উপদেষ্টা।
বেপজার চেয়ারম্যান জানান, সম্প্রতি চীনা বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ১৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব পেয়েছেন তারা। এছাড়া আরও বিনিয়োগের আলোচনা চলছে। বর্তমানে দেশে আটটি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল চালু রয়েছে, যেখানে ৪৫২টি ফ্যাক্টরি কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং আরও ১৩৬টি ফ্যাক্টরি নির্মাণাধীন। বিনিয়োগকারীরা বেশকিছু বিষয়ে সহযোগিতা চেয়েছেন, যেমন বেপজা এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সুবিধা। চীনের সাংহাইয়ে ভিসা কাউন্সেলর সার্ভিস চালু করার প্রস্তাবও এসেছে।
প্রধান উপদেষ্টা বেপজাকে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং গ্যাস অনুসন্ধানে কাজ করার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, “জ্বালানি সরবরাহের বর্তমান কাঠামো উন্নত করতে হলে বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করতে হবে।” বৈঠকে উপস্থিত বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী অর্থনৈতিক কূটনীতির ওপর জোর দিয়ে বলেন, “বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।”
বিডার চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, “বেপজা এবং বেজার মতো অঞ্চলগুলোকে আরও আকর্ষণীয় করতে হলে তাদের সুযোগ-সুবিধা বিশ্বজুড়ে প্রচার করতে হবে।” বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব মো. সিরাজ উদ্দিন মিয়া উপস্থিত ছিলেন।


