স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, ডিবি কার্যালয়ে আর কোনো ভাতের হোটেল বা আয়নাঘর থাকবে না। সোমবার ডিবি কার্যালয় পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। পরিদর্শনের সময় জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী আরও জানান, ডিবি সদস্যরা এখন থেকে সিভিল ড্রেসে কোনো অভিযান চালাতে পারবে না। ডিবি পরিচয়ে কাউকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনার অভিযোগ এলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব জনগণের আস্থা অর্জন করা। কোনো ধরনের অনিয়ম মেনে নেওয়া হবে না।”
ডিবির কার্যক্রম নিয়ে তিনি বলেন, “সবার আগে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ডিবি কর্মকর্তাদের আচরণ ও কার্যক্রমে যাতে সাধারণ মানুষের মনে কোনো ভীতি না থাকে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি রাখা হবে।” সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, “মিয়ানমার সীমান্তে যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ সতর্ক আছে। মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও আরাকান আর্মির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। সীমান্তের পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণেই আছে এবং সেখানে কোনো শিথিলতা নেই।”
তিনি আরও জানান, “যদি সীমান্তে কোনো উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনী সবসময় প্রস্তুত রয়েছে।” সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “দেশে ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও সক্রিয় রয়েছে। অপরাধীরা ধরা পড়ছে এবং যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।”
সচিবালয়ের সামনে পুলিশ সদস্যদের আন্দোলনের প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে যেসব পুলিশ সদস্য বাদ পড়েছে, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। যদি প্রমাণ মেলে, তবে তাদের আর বাহিনীতে ফিরিয়ে নেওয়া হবে না। পুলিশের শৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার।” স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এ সময় ডিবি কার্যালয়ের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।


