মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশ শ্রম অভিবাসন খাতে কৌশলগত সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। উভয় দেশ একটি স্বচ্ছ, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সততা-নির্ভর ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে।
আজ মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এই প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়। বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান, যিনি এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, একটি ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে আলোচনার মূল দিকগুলো তুলে ধরেন।
তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী আলোচনার প্রধান বিষয়গুলো ছিল, একটি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল এবং আইনানুগ অভিবাসন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা এবং কর্মী নিয়োগের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করা। মালয়েশিয়ার খাতভিত্তিক চাহিদার ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য শ্রমবাজার দ্রুত পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে। মধ্যস্বত্বভোগীদের (দালাল) ভূমিকা হ্রাস করা, অভিবাসন ব্যয় কমানো এবং শুধুমাত্র অনুমোদিত ও যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগ নিশ্চিত করা।
বৈঠকে মালয়েশিয়া একটি প্রযুক্তি এবং আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) ভিত্তিক নিয়োগ পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ তুলে ধরে। এই পদ্ধতির লক্ষ্য হলো- মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভরতা কমানো।আইএলও-র ‘এম্পলোয়ার পেস’ নীতি অনুযায়ী নিয়োগের যাবতীয় খরচ নিয়োগকর্তার বহন নিশ্চিত করা। বাংলাদেশ এই উদ্যোগের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছে এবং এর বাস্তবায়নে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।
আলোচনায় কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা এবং মানব পাচার রোধের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। উভয় দেশই আইনের শাসন সমুন্নত রাখা, স্বচ্ছ বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা এবং নিজ নিজ আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি রক্ষায় গুরুত্বারোপ করেছে। শিল্পের চাহিদার সাথে জনশক্তির সঠিক মেলবন্ধন এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ, সনদ প্রদান এবং তথ্য আদান-প্রদানের বিষয়েও সহযোগিতা জোরদার করা হবে।
মন্ত্রী রামানান জানান, গৃহীত এই উদ্যোগগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে নিয়মিতভাবে ফলো-আপ সেশন বা আলোচনা অব্যাহত থাকবে। তিনি এই সহযোগিতাকে একটি ন্যায্য, টেকসই এবং বিশ্বজুড়ে প্রতিযোগিতামূলক শ্রম অভিবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি হিসেবে অভিহিত করেছেন। সূত্র: বার্নামা


