ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় আবারও বড় ধরনের স্থল অভিযান শুরু করেছে ইসরাইল। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকার সেনাবাহিনীকে গাজার আরও গভীরে প্রবেশের নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে হামাসের হাতে থাকা অবশিষ্ট ইসরাইলি বন্দিদের মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত নতুন নতুন এলাকা দখলেরও প্রস্তুতি নিচ্ছে তেল আবিব।
শুক্রবার (২১ মার্চ) সৌদি গণমাধ্যম আরব নিউজ এক প্রতিবেদনে জানায়, ইসরাইলি সেনাবাহিনী গাজার রাজধানী শহরের পশ্চিমাংশে তিনটি পাড়ায় অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের আগেই এলাকা ছেড়ে যেতে সতর্ক করা হয়েছে।
এ অভিযান শুরুর কিছুক্ষণ আগে ইসরাইলের উপকূলীয় শহর আশকেলনে রকেট হামলার সাইরেন বাজতে শুরু করে। ইসরাইলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, উত্তর গাজা থেকে ছোড়া দুটি রকেট প্রতিহত করা হয়েছে। এরপরই গাজার নতুন নতুন এলাকায় অভিযান জোরদার করা হয়।
গত কয়েকদিন ধরে ইসরাইলি বাহিনী গাজার উত্তর ও দক্ষিণের বিভিন্ন অংশে হামলা চালিয়ে আসছে। গাজা শহর এবং উত্তর গাজা পুনরায় অবরুদ্ধ করার পাশাপাশি তারা দক্ষিণের রাফাহ শহরের দিকেও অগ্রসর হয়েছে।
সেনাবাহিনী বলছে, গাজার উত্তর ও দক্ষিণ অংশকে বিভক্তকারী করিডোরের কিছু এলাকা পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া বেইত লাহিয়া ও রাফাহর দিকে আগ্রাসন আরও জোরদার করা হচ্ছে। শুক্রবার ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ জানিয়েছেন, হামাস যতদিন জিম্মিদের মুক্তি দেবে না, ততদিন গাজার আরও এলাকা দখল করা হবে।
তিনি বলেন, “আমি সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছি গাজার আরও অংশ দখল করতে। হামাস যত বেশি জিম্মিদের আটকে রাখবে, তত বেশি এলাকা তারা হারাবে এবং এগুলো ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।”
তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন, গাজার চারপাশে বাফার জোন সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে ওই অঞ্চলে ইসরাইলি দখল আরও পাকাপোক্ত করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরাইলের নতুন এই আগ্রাসন গাজার মানবিক সংকট আরও গভীর করবে এবং সংঘাতের মাত্রা ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে তুলবে।


