বিদেশে কাজ করা প্রবাসীরা বাংলাদেশে অর্থ পাঠানোর পাশাপাশি তাদের মজুরী আয়ের একটি অংশ নিরাপদ ও লাভজনকভাবে বিনিয়োগ করার সুযোগ পাচ্ছেন ওয়েজ আর্নার্স ডেভেলপমেন্ট বন্ডের মাধ্যমে। দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রিয় এই বন্ড প্রবাসীদের জন্য একটি স্থায়ী সঞ্চয় এবং আয়ের উৎস হিসেবে বিবেচিত।
ওয়েজ আর্নার্স ডেভেলপমেন্ট বন্ডে বিনিয়োগ করলে সরকার থেকে বার্ষিক ১২ শতাংশ সরল সুদ পাওয়া যায়। প্রতি ছয় মাস অন্তর এই মুনাফা প্রাপ্য হয় এবং সম্পূর্ণ করমুক্ত। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীদের মুনাফার ওপর কোনও আয়কর বা উৎসকর দিতে হয় না, যা অন্য সঞ্চয়পত্রের তুলনায় এটি বিশেষ করে তোলে। বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সুদের হার কিছুটা কমে, যেমন ১৫ লাখ টাকার উপরে ১২%, ৩০ লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকায় ১০% এবং এক কোটি টাকার উপরে ৯% পর্যন্ত হারে মুনাফা পাওয়া যায়।
বন্ডে বিনিয়োগকারীর মৃত্যু হলে তার মনোনীত নমিনি বা উত্তরাধিকারীরা বিনিয়োগকৃত টাকা ও মুনাফা পাবেন। বন্ডের সঙ্গে মৃত্যুঝুঁকির বিমা সুবিধাও রয়েছে, যা ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। বন্ডের মেয়াদ সাধারণত পাঁচ বছর, তবে একাধিকবার নবায়ন সম্ভব, ফলে মোট বিনিয়োগ ১৫ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
২০২৪ সালের নভেম্বরে সরকার প্রবাসীদের বিনিয়োগের সীমা তুলে দিয়েছে, যার ফলে তারা যে কোনো পরিমাণে বন্ড কিনতে পারবেন। বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি মেরিনার, পাইলট, কেবিন ক্রুসহ বিভিন্ন পেশাজীবী ও ব্যবসায়ীরাও এই বন্ডে বিনিয়োগ করতে পারেন।
ওয়েজ আর্নার্স ডেভেলপমেন্ট বন্ড কিনতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যেমন জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, বৈধ ভিসা, চাকরির প্রমাণপত্র ইত্যাদি। বাংলাদেশ ব্যাংক, এক্সচেঞ্জ হাউস ও অনুমোদিত ডিলার শাখায় সহজেই এই বন্ড কেনা যায়।
যারা প্রবাসে আয়ের একটি অংশ নিরাপদ, করমুক্ত এবং উচ্চ মুনাফাসহ বিনিয়োগ করতে চান, তাদের জন্য এই বন্ড একটি সঠিক বিকল্প। এটি শুধু আয়ের উৎস নয়, পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।


