বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকারের সমালোচনা করে বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলো সবসময়ই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সমর্থন করেছে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের উদ্দেশ্যে। তিনি এও দাবি করেন যে, ক্ষমতাসীন দল তাদের ব্যর্থতা ঢাকতে বিরোধী দলগুলোর ওপর দোষ চাপাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মির্জা ফখরুল বলেন, “সরকারের তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামের বক্তব্য যে রাজনৈতিক দলগুলো সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণের চেষ্টা করছে, তা প্রকৃতপক্ষে রাজনীতিবিরোধী। আমরা সবসময় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিশ্বাস করি এবং জনগণের জন্য কাজ করে যেতে চাই।”
মির্জা ফখরুল সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তারেক রহমানের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা ও প্রতিহিংসামূলক মামলা দেওয়া হয়েছে। এসব মামলা প্রত্যাহার বা আইনি প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি হলেই তিনি দেশে ফিরতে পারবেন।”
গত ৩০ নভেম্বর লন্ডনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়ার পর তিনি তারেক রহমানসহ বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সফরে দলের ভবিষ্যৎ কৌশল ও নির্বাচনী পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান মির্জা ফখরুল।
বিএনপির মহাসচিব আরও বলেন, “বাংলাদেশে যে গভীর রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে, তা নির্বাচিত সরকার ছাড়া সমাধান সম্ভব নয়। আমরা নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে ন্যূনতম সংস্কার চেয়েছি, যাতে জনগণের সুষ্ঠুভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকে।”
এদিকে, বিএনপিকে ‘সংস্কারবিমুখ’ দল বলে সরকারের যে সমালোচনা, তা নাকচ করে দেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, “আমরা কখনোই নির্বাচনের বাইরে কোনো পদক্ষেপ নিতে চাই না। কিন্তু সরকার যদি জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত না করে, তবে দেশে গণতন্ত্র অক্ষুণ্ণ রাখা সম্ভব নয়।”
মির্জা ফখরুলের এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি ও সরকারের কৌশল নিয়ে যে মতপার্থক্য রয়েছে, তা আরও তীব্র আকার ধারণ করছে।


