জার্মান প্রেসিডেন্ট ফ্রাংক-ভাল্টার স্টাইনমায়ার সম্প্রতি গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের ক্যানডানোস গ্রামে গিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি বাহিনীর অত্যাচারের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। এই গ্রামটি ১৯৪১ সালের ৩ জুন জার্মান সেনাদের দ্বারা ধ্বংস করা হয়, যেখানে ২৫ জন জার্মান প্যারাট্রুপার ও সেনার মৃত্যুর প্রতিশোধ হিসেবে স্থানীয়দের ওপর নির্মম অত্যাচার চালানো হয়।
স্টাইনমায়ার এই গ্রামে যাওয়ার মাধ্যমে প্রথম জার্মান প্রেসিডেন্ট হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন। তিনি বলেন, “আমি তাদের কাছে ক্ষমা চাইছি যারা সেদিন বেঁচে গিয়েছিলেন এবং তাদের বংশধরদের কাছে।” তিনি এই ঘটনাকে জার্মানির জন্য একটি লজ্জার মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, “এখানে এসে কথা বলা খুবই কঠিন।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “যে বর্বরতা এবং নিষ্ঠুরতার সাথে জার্মানি এখানে আগ্রাসন চালিয়েছিল, তা আজও হৃদয়ে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে।” স্টাইনমায়ার স্থানীয়দের পুনর্মিলনের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “আপনারা পুনর্মিলনের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।”
সেখানে উপস্থিত লোকজন জার্মানির বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়ে স্লোগান দেন, জানিয়ে যে জার্মানি তাদের দাবি মেনে ক্ষতিপূরণ দেয়নি। যুদ্ধের পরবর্তী সরকার এই বিষয়টি নিয়ে নীরব থাকায় ক্ষতিগ্রস্তরা ন্যায়বিচারের দাবিতে লড়াই চালিয়ে যাবেন।
৯৭ বছর বয়সী দেসপিনা ফিওটাকিস, যিনি এই হামলার শিকার হয়েছিলেন, তিনি কালো পোশাক পরে উপস্থিত ছিলেন এবং বলেন, “জার্মানরা আমাদের ধ্বংস করে দিয়েছিল। নাৎসি সময়কাল ছিল আমাদের জীবনের কালো অধ্যায়।”
স্টাইনমায়ারের এই সফর ইতিহাসের ক্ষতগুলি মেরামতের একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


