মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলে কোটা পদ্ধতির প্রয়োগের প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এলাকায় মধ্যরাতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ হয়েছে। রোববার (১৯ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ঢাবি, ঢামেক ও ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা এ বিক্ষোভে অংশ নেন। বিক্ষোভে শিক্ষার্থীরা বলেন, মুক্তিযোদ্ধাসহ অন্যান্য কোটা পদ্ধতি রেখে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল বৈষম্যমূলক হয়েছে। স্লোগানে তারা দাবি করেন, “কোটা না মেধা, মেধা-মেধা”, “মেডিকেলে কোটা কেন? প্রশাসন জবাব দে”, এবং “বৈষম্যের কবর দাও।”
নেতৃত্বস্থানীয় এক শিক্ষার্থী বলেন, “২০২৪ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় আমরা বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। সেই আন্দোলনের পর স্বৈরাচার সরকারের পতন ঘটলেও বর্তমান সরকার ছয় মাসেও কোটাব্যবস্থা বিলুপ্ত করেনি। এখনও মেধার চেয়ে কোটার ভিত্তিতে ভর্তির সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, যা অসহ্য।” রোববার প্রকাশিত মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলে ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজে ৫,৩৭২ জন শিক্ষার্থী নির্বাচিত হন। তবে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ৭৩ পেয়ে একজন ভর্তির সুযোগ পাননি, কিন্তু ৪১ পেয়ে কোটা সুবিধায় কেউ চান্স পেয়েছেন।
বিক্ষোভকারীরা আরও বলেন, “আমাদের ভাইরা বৈষম্য দূর করতে জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাদের ত্যাগের সঙ্গে বেইমানি করা হচ্ছে। এই বৈষম্য দূর না হলে আমাদের আরও বড় আন্দোলনে যেতে হবে।” এর আগে রাত ১০টার দিকে ঢাকা কলেজ হল পাড়া থেকে একটি মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি সাইন্সল্যাব, নীলক্ষেত হয়ে ঢাকা কলেজে ফিরে সমাপ্ত হয়। পরে শহীদ মিনারে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়, যেখানে শিক্ষার্থীরা মেডিকেল ভর্তির ফল বাতিল করে নতুন ফল প্রকাশের দাবি জানান।
বিক্ষোভকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “কোটা সংস্কার না হলে সরকারের পরিণতি হবে ২০২৪ সালের আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত সরকারের মতো।” মধ্যরাত পর্যন্ত চলা এই বিক্ষোভে শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ স্লোগান ও প্রতিবাদ রাজধানীর পরিবেশকে সরগরম করে তোলে।


