ঢাকা ব্যাংক পিএলসির নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ওসমান এরশাদ ফয়েজ। তিনি গতকাল এ দায়িত্ব গ্রহণ করেন বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
আন্তর্জাতিক ব্যাংক খাতে তিন দশকের বেশি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ওসমান এরশাদ ফয়েজ বিভিন্ন বৈশ্বিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ব্যাংকিং কৌশল, প্রযুক্তি, পরিচালনা ব্যবস্থা, ডিজিটাল রূপান্তর, কোর ব্যাংকিং প্লাটফর্ম ও ফিনটেক খাতে তার দক্ষতা রয়েছে।
ঢাকা ব্যাংকে যোগদানের আগে ওসমান এরশাদ ফয়েজ ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) ও প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি সিঙ্গাপুরভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ও ফিনটেক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এশিয়া ফিটের সহপ্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।
কর্মজীবনে ওসমান এরশাদ ফয়েজ এএমটিডি ডিজিটালের চিফ ইনফরমেশন অ্যান্ড অপারেটিং অফিসার (সিআইওও) এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক সিঙ্গাপুরের এমডি ও সিওও হিসেবে কাজ করেছেন। এছাড়া তিনি স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের ইস্টার্ন হেমিস্ফিয়ার অঞ্চলের হোলসেল ব্যাংকিংয়ের এমডি ও চিফ ইনফরমেশন অফিসার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি পাঁচ বছর সিঙ্গাপুর ক্লিয়ারিং হাউজ অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক ছিলেন।
প্রযুক্তিনির্ভর নেতৃত্ব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মপরিবেশ গড়ে তোলার স্বীকৃতিস্বরূপ ওসমান এরশাদ ফয়েজ ২০২৩ সালে ওয়ার্ল্ড সিআইও ২০০ সামিটে ‘লিজেন্ড’ অ্যাওয়ার্ড পান। নারী নেতৃত্ব ও ব্যবসায় নারীদের অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখায় তিনি ইনভলভ, ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস ও ইয়াহু ফাইন্যান্সের সহায়তায় প্রকাশিত ‘হিরোস গ্লোবাল রোল মডেল’ শীর্ষক তালিকায় একাধিকবার স্থান পেয়েছেন। এছাড়া তিনি ২০১৫ সাল থেকে সিঙ্গাপুরের ইনস্টিটিউট অব ব্যাংকিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সের একজন ফেলো।
ওসমান এরশাদ ফয়েজ ভারতের আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিকম (অনার্স) ও এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তিনি ইনসিয়াড ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাঈদ বিজনেস স্কুলে নির্বাহী শিক্ষা কর্মসূচিও সম্পন্ন করেছেন। ১৯৯৩ সালে আমেরিকান এক্সপ্রেসে ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি হিসেবে তার পেশাগত জীবন শুরু হয়।
দায়িত্ব গ্রহণের পর ঢাকা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ওসমান এরশাদ ফয়েজ বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা একটি প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দেয়ার সুযোগ পাওয়া আমার জন্য সম্মানের। আমার লক্ষ্য হবে গ্রাহক ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার আস্থা আরো জোরদার করা, প্রযুক্তি ও প্রক্রিয়ায় আধুনিকায়ন আনা এবং ব্যক্তি, ব্যবসা ও প্রাতিষ্ঠানিক গ্রাহকদের জন্য সেবার মান উন্নত করা।’