ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৬৭ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, তবে এই সময়ের মধ্যে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা এখন ১ লাখ ৫৫ হাজার ৫৫৮ জনে পৌঁছেছে।২৪ ডিসেম্বরের প্রতিবেদনে জানা যায়, চট্টগ্রাম বিভাগে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যেখানে ২২ জন রোগী চিকিৎসাধীন। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে এই সময়ে ১২ জন করে মোট ২৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন। অন্যান্য বিভাগে, ঢাকা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেটসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বেশ কিছু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ৯৩৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছেন, যার মধ্যে ৩৫৭ জন ঢাকা শহরের বিভিন্ন হাসপাতাল এবং ৫৭৮ জন ঢাকা বাইরের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই বছর, ঢাকার বাইরের হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ৬০ হাজার ৩৬২ জন, আর ঢাকা মহানগরের হাসপাতালে ভর্তি রোগী সংখ্যা ৪০ হাজার ১১৯৬ জন।বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ডেঙ্গু এখন আর সিজনাল রোগ নয়; এটি সারাবছরই প্রাদুর্ভাব ঘটাচ্ছে। অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান বলেন, বৃষ্টি মৌসুমে ডেঙ্গু রোগের প্রকোপ বাড়ে, তাই মশানিরোধক ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন। তিনি শহর এলাকায় সিটি করপোরেশন কর্তৃক মশা নিধন কার্যক্রম এবং জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধির প্রতি গুরুত্ব দেন।
কীটতত্ত্ববিদ ড. মনজুর চৌধুরী বলেন, ডেঙ্গু মোকাবেলায় শুধু মশানিধন ও জনসচেতনতা কার্যক্রমই যথেষ্ট নয়, সঠিকভাবে জরিপ পরিচালনা করে দক্ষ কর্মী দ্বারা কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নুরজাহান বেগম এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব ক্রমশ বাড়ছে এবং দেশের সব হাসপাতালকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা জনগণকে সচেতন করতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করছি এবং ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে রাখতে সকল চেষ্টা চালাচ্ছি।”২০২৩ সালে, দেশের ইতিহাসে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা সর্বোচ্চ ছিল, ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন, এবং ১ হাজার ৭০৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন।


