বাংলাদেশের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) পদ্ধতি বাদ দিয়ে সম্পূর্ণ ব্যালটের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন এ কথা জানান।
সিইসি নাসির উদ্দীন বলেন, “ইভিএমের ব্যবহার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক রয়েছে। প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা এবং মানুষের আস্থার সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। তাই আগের পদ্ধতিতে ফিরে গিয়ে ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
এর আগে, সোমবার নির্বাচন কমিশনার তাহমিদা আহমেদ জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ২০২৫ সালের শেষ দিকে বা ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কারের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, “ভোটার তালিকা নির্ভুলভাবে হালনাগাদ করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। গত ১৫ বছরে অনেক যোগ্য নাগরিক ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেননি। তাদের সঠিকভাবে তালিকাভুক্ত করা হবে এবারের অগ্রাধিকার।”
তিনি আরও বলেন, “নতুন প্রজন্মের তরুণ-তরুণীরা এবার জীবনে প্রথমবার ভোট দিতে পারবে। এই সুযোগ নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। তাদের ভোট প্রদানের অভিজ্ঞতা যেন স্মরণীয় হয়, সে জন্য সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।”
বিভিন্ন নির্বাচন পরবর্তী প্রতিবেদন এবং রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি অনুযায়ী, ইভিএম নিয়ে সন্দেহের অবকাশ ছিল। ভোটারদের মধ্যে এ প্রযুক্তি সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণার অভাব এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর আপত্তির কারণে ইসির ওপর চাপ তৈরি হয়েছিল। ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ হওয়ায় এবার ভোটারদের আস্থা পুনরুদ্ধার করা সহজ হবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
সরকার ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো ইসির এ সিদ্ধান্তের পর বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আসছে। বিরোধী দলগুলো দীর্ঘদিন ধরেই ইভিএম বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছিল। অন্যদিকে, সরকার বলছে, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে যে পদ্ধতি জনগণের আস্থা অর্জন করবে, সেটাই গ্রহণযোগ্য।
ব্যালট পদ্ধতিতে ফিরে যাওয়ার এই সিদ্ধান্তের ফলে আগামী জাতীয় নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়বে বলে আশা করছেন নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।


