গাজীপুরের প্রধান মহাসড়কগুলো দখল করে গড়ে উঠছে একের পর এক অস্থায়ী দোকান। এতে পথচারীরা স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছেন না, যান চলাচলেও ঘটছে ব্যাঘাত। ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঘরমুখো যাত্রীদের জন্য এ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গাজীপুরের বোর্ড বাজার এলাকায় মহাসড়কের একাংশ দখল করে চলছে অস্থায়ী দোকানপাট। কাপড়, জুতা, ফল, এমনকি রান্নার সামগ্রীও বিক্রি হচ্ছে রাস্তায় বসেই। ফলে যানবাহনের গতি কমে যাচ্ছে, তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। পথচারীদেরও হাঁটার জায়গা থাকছে না, বাধ্য হয়ে মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব দোকান বসানোর পেছনে একটি চাঁদাবাজ চক্র সক্রিয়। দোকানিদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা তোলা হয়, যার ফলে প্রশাসনও অনেক সময় নিরব থাকে। স্থানীয় এক দোকানদার জানান, প্রতিদিন ৫০ থেকে ১০০ টাকা করে চাঁদা দিতে হয়, না হলে দোকান গুটিয়ে নিতে বাধ্য করা হয়।
সড়ক দখলমুক্ত করতে পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান চালানো হয়। তবে অভিযান শেষ হতেই হকাররা আবারও দোকান বসিয়ে ফেলেন। সম্প্রতি গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকায় পুলিশের এক বিশেষ অভিযানের পর কয়েক ঘণ্টার জন্য সড়ক ফাঁকা হলেও পরে আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়।
বাসন থানার ওসি কাউসার আহমেদ বলেন, ‘ছিনতাই, চুরি ও সড়ক দখল রোধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে বারবার দোকান বসানো একটি বড় চ্যালেঞ্জ।’ গাজীপুর সিটি করপোরেশন ও পুলিশ প্রশাসন উভয়ই সড়ক দখলের বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। তবে এখনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ। সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী শামসুর রহমান বলেন, ‘সড়ক দখলমুক্ত রাখা শুধু আমাদের কাজ নয়, পুলিশ প্রশাসনেরও দায়িত্ব রয়েছে।’
এদিকে, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার রিয়াজ উদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিলে তাদের জীবিকা সংকটে পড়বে, তাই মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি দেখতে হচ্ছে।’ তবে ঈদযাত্রার সময়ে যানজট ও জনদুর্ভোগ এড়াতে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে, এমনটাই আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।


