বাংলাদেশের ব্যবসা ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব, এইচআরসি গ্রুপের চেয়ারম্যান সাঈদ হোসেন চৌধুরী আর নেই। মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন তার ব্যক্তিগত সচিব এমডি সোহেল।
সাঈদ হোসেন চৌধুরী কর্ণফুলী গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হেদায়েত হোসেন চৌধুরীর পুত্র এবং কর্ণফুলী গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও তিনি দেশের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও সামাজিক নেতা ছিলেন।
বাংলাদেশের বাণিজ্য ও শিল্প ক্ষেত্রে তার অবদান উল্লেখযোগ্য। ব্যবসা পরিচালনায় তিনি যে নীতি ও সততা বজায় রেখেছেন, তার জন্য তিনি দেশের ব্যবসায়িক মহলে উচ্চ সম্মানিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সামাজিক ও ব্যবসায়িক সংগঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রেখেছেন।
সাঈদ হোসেন চৌধুরী দেশের রাজনৈতিক মহলেও গুরুত্বপূর্ণ পরিচিতি ছিল। তিনি দেশের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিশিষ্ট নেতা সাবের হোসেন চৌধুরীর বড় ভাই হিসেবে পরিচিত।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার পরিচয় ছিল বাংলাদেশি প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তিনি স্পেনে বাংলাদেশের সাবেক অনারারি কনসাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং দেশটির সাথে বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক জোরদার করতে কাজ করেছেন। তার কূটনৈতিক ভূমিকা বাংলাদেশের বিদেশনীতি ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই পুত্র ও এক কন্যাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের পাশাপাশি ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক ও সামাজিক জগতের অনেকেই শোক প্রকাশ করেছেন।
পরিবারের সদস্যরা বলছেন, সাঈদ হোসেন চৌধুরী ছিলেন অত্যন্ত পরিশ্রমী ও মানবতাবাদী ব্যক্তি। তিনি সবসময় দেশের কল্যাণে কাজ করেছেন এবং তার পথ অনুসরণ করবে পরবর্তী প্রজন্ম।
তার মৃত্যু দেশের ব্যবসায়িক ও সামাজিক মহলে এক শূন্যতার সৃষ্টি করেছে, যা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। তার স্মৃতিচারণ করে অনেকেই তাঁর নৈতিকতা, দক্ষতা ও আন্তরিকতার প্রশংসা করেছেন।
সাঈদ হোসেন চৌধুরীর প্রয়াণ বাংলাদেশের ব্যবসায়িক ও কূটনৈতিক ইতিহাসে একটি বড় ক্ষতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


