রমজানজুড়ে বাজার কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও ঈদ যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। সবজি, চাল, মাছ থেকে শুরু করে মসলা পর্যন্ত প্রায় সব পণ্যের মূল্য বেড়েছে, যা সাধারণ ভোক্তাদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।
রাজধানীর কেরানীগঞ্জ, নয়াবাজার ও কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ সবজির দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। করলা, বরবটি, ঢ্যাঁড়শ, আলু, মিষ্টি আলু, লাউ, পটোলের দাম প্রতি কেজিতে ১০-২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বিশেষ করে বেগুন ও শসার দাম চড়া, যা রোজার সময়ও বেশি ছিল। বিক্রেতারা দাবি করছেন, ঈদের কারণে সরবরাহ কম, তাই দাম বেড়েছে।
ঈদের আগে চালের বাজারেও অস্থিরতা দেখা গেছে। মিনিকেট ও নাজিরশাইল চালের দাম কেজিতে ৫-৮ টাকা বেড়েছে। খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, মিল মালিকদের মজুত কমে যাওয়ায় দাম বাড়ছে, যদিও ক্রেতারা একে সিন্ডিকেটের ফল বলছেন।
অন্যদিকে, মাছের বাজারেও বড় উর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে। ইলিশের দাম কেজিতে ২০০-৩০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে এক কেজি ওজনের ইলিশ ২৫০০ টাকায়, দেড় কেজি ওজনের ইলিশ ৩৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য মাছের দামও বেড়েছে। রুই ৩৫০-৪২০ টাকা, কাতল ৩৮০-৪৫০ টাকা, শিং ৫৫০ টাকা, পাঙাশ ১৮০-২২০ টাকা এবং তেলাপিয়া ১৮০-২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ঈদ সামনে রেখে আদা, রসুন, পেঁয়াজের দামও কিছুটা বেড়েছে। দেশি পেঁয়াজ ৪০ টাকা কেজি, রসুন ৮০ টাকা এবং আদা ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভোক্তারা বলছেন, রমজান ও ঈদ সামনে রেখে ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম বাড়াচ্ছেন। নিয়মিত বাজার মনিটরিং না থাকায় এই সুযোগ নিচ্ছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী।
নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা। তারা মনে করেন, সরকার যদি কঠোর মনিটরিং চালু করে এবং সিন্ডিকেট ভেঙে দেয়, তাহলে বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হবে এবং ভোক্তারা স্বস্তি পাবে।


