মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান অস্থিরতার মাঝেও রেমিট্যান্স প্রবাহে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে। মাস শেষ হওয়ার তিনদিন আগেই অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন প্রবাসীরা।
চলতি বছর রমজান শুরু হয়েছিল ১৯ ফেব্রুয়ারি। এরপর ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হয়েছে ২১ মার্চ। এ মাসের প্রথম ২৮ দিনে প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ। এ সময়ে দেশে ৩ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন বা ৩৩৩ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। বিপরীতে গত বছরের একই সময়ে এসেছিল প্রায় ৩২১ কোটি ডলার। রেমিট্যান্সের এ প্রবাহ অব্যাহত থাকলে চলতি মাস শেষে তা ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
এ নিয়ে টানা চার মাস ৩ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করেছে প্রবাসী আয়। গত বছরের ডিসেম্বরে দেশে বৈধ পথে রেমিট্যান্স আসে ৩২২ কোটি ডলার। এরপর চলতি ২০২৬ সালের প্রথম মাস তথা জানুয়ারিতে প্রবাসীরা দেশে ৩১৭ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠান। এরপর ফেব্রুয়ারিতে প্রবাসী আয় আসে ৩০২ কোটি ডলার। সব মিলিয়ে দেশের ইতিহাসে একক মাস হিসেবে এখন পর্যন্ত পাঁচবার ৩ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করেছে প্রবাসী আয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত ২৫ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয় এসেছে দেশে। যেখানে গত অর্থবছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় এসেছিল ২১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। এক বছরের ব্যবধানে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৮ দশমিক ৮ শতাংশ।
দেশ থেকে অর্থ পাচার নিয়ন্ত্রণে আসায় ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময় থেকেই দেশে বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। প্রবাসীরা অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি অর্থ দেশে পাঠাচ্ছেন। দেশে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে তারা ব্যাংকিং চ্যানেলের ওপরই আস্থা রাখছেন। আশা করছি, আগামী দিনগুলোতেও রেমিট্যান্সের এ প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে।’


