ভারতের আদানি পাওয়ার (ঝাড়খণ্ড) লিমিটেডের সঙ্গে বাংলাদেশের করা বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি সংশোধনের বিষয়টি বর্তমানে সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।
মন্ত্রী জানান, ২০১৭ সালে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিটি একটি জাতীয় কমিটির মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত ওই কমিটিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, আইনজ্ঞ, অর্থনীতিবিদ এবং চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
তাদের মূল্যায়নে উঠে এসেছে, পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে চুক্তিটি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারদরের তুলনায় বেশি মূল্যে সম্পাদিত হয়েছিল। বর্তমানে সরকার চুক্তি সংশোধনের জন্য দুটি পথ বিবেচনা করছে—আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের মাধ্যমে সমাধান অথবা আদানি পাওয়ারের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে নতুন শর্ত নির্ধারণ।
এদিকে, দেশে বিদ্যুতের সামগ্রিক উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও গ্রীষ্মকালে জ্বালানির সীমাবদ্ধতা ও সঞ্চালন ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দেয় বলে জানান মন্ত্রী। ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং ১৮০ দিনের একটি কর্মপরিকল্পনাও প্রণয়ন করা হয়েছে।
সংসদে জ্বালানি সংকটের অভিযোগও ওঠে। একাধিক সংসদ সদস্য দাবি করেন, পেট্রল পাম্পগুলোতে সরবরাহে ঘাটতি দেখা যাচ্ছে এবং অনেক স্থানে দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, প্রতিদিন নির্ধারিত পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাবে হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় স্বল্প সময়ে তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে, যার ফলে পাম্পগুলোতে ভিড় ও সাময়িক সংকটের চিত্র দেখা দিচ্ছে। তিনি জনগণকে অপ্রয়োজনীয় আতঙ্ক ও অতিরিক্ত জ্বালানি ক্রয় থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।


