আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও ফরাসি উন্নয়ন সংস্থা (এএফডি) থেকে যাচাই-বাছাই ছাড়াই নেওয়া ৩ হাজার ৬৯৭ কোটি টাকার বৈদেশিক ঋণ এখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, লোকদেখানো উন্নয়নের প্রতীক হয়ে উঠেছে বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্প। এটি দানবীয় ও অপরিকল্পিত বলে আখ্যা দিয়েছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। প্রকল্পটি গাজীপুর থেকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত নির্দিষ্ট লেনে বাস সার্ভিস চালুর লক্ষ্যে গ্রহণ করা হয়। চার বছরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য থাকলেও প্রায় ১৭ বছরেও এটি বাস্তবায়িত হয়নি।
মূল অনুমোদিত ব্যয় ছিল ২ হাজার ৩৯ কোটি টাকা। তা তিনবার সংশোধনের পর বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ২৬৮ কোটি টাকা। বর্তমানে চতুর্থ সংশোধনীর প্রস্তাবে এটি ৬ হাজার ৫৯৭ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ৩ হাজার ৬৯৭ কোটি টাকা।
পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, “প্রকল্পটি এখন বন্ধও করা যাচ্ছে না, আবার বাস্তবায়ন করতেও লাগবে আরও বিপুল অর্থ। এটি সত্যিকার অর্থে এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতি।” তিনি আরও জানান, কীভাবে, কেন এবং কারা এই প্রকল্পে অনুমোদন দিয়েছিল, সে বিষয়ে এখন তদন্ত চলছে।
২০২২ সালে এডিবির সঙ্গে অতিরিক্ত ১০ কোটি ডলার ঋণ চুক্তি ও ২০২৩ সালে এএফডির সঙ্গে ১০ কোটি ইউরো ঋণ চুক্তি হয়। এসব ঋণে ২ শতাংশ সুদ, ম্যাচুরিটি ও কমিটমেন্ট চার্জ রয়েছে, যার রেয়াতকাল ইতোমধ্যে শেষ।
পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত প্রকল্পে খরচ হয়েছে ২ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। কিন্তু বাস্তব অগ্রগতি মাত্র ৭৭.৪৭%। সম্প্রতি একনেক সভায় চতুর্থ সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদন না দিয়ে প্রকল্পটি আরও খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আইএমইডিকে।


