জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যায় পুলিশের সাবেক এএসআই মো. আমির হোসেন ও কনেস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়কে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাঁরা দুজনেই গ্রেপ্তার আছেন। রায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. হাসিবুর রশিদ ও আরও দুই শিক্ষককে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ সভাপতি পমেল বড়ুয়াকে ১০ বছর সাজা দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগ সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাচিপের রংপুরের সভাপতি ডাক্তার মো. সারোয়াত হোসেন ওরফে চন্দনকে ৫ বছর, আরএমপির সাবেক কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান ওরফে বেল্টুর ১০ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আর বেরোবির সাবেক প্রক্টর মো শরীফুল ইসলামকে খালাস পেয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
এরআগে আবু সাঈদকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার আসামিদের ট্রাইব্যুনালে তোলা হয়। রায় উপলক্ষে ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়। এই মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও রংপুরের পুলিশ কমিশনারসহ মোট আসামি ৩০ জন।
মামলার প্রধান আসামি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সে-সময়ের উপাচার্য ড. হাসিবুর রশিদ। তালিকায় আরও আছেন ৪ শিক্ষক, আরএমপির সাবেক কমিশনার মনিরুজ্জামানসহ ৮ পুলিশ, ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী। এদের মধ্যে এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার মাত্র ৬ জন।
আবু সাঈদ হত্যায় ঊর্ধ্বতন নির্দেশদাতা হিসেবে এরই মধ্যে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে যাবজ্জীবন সাজা দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।


