আফ্রিকায় পরিবেশবান্ধব জ্বালানি খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগে শীর্ষ অবস্থানে পৌঁছেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। গত কয়েক বছরে চীন, ব্রিটেন ও ফ্রান্সের মতো প্রভাবশালী দেশগুলোর বিনিয়োগ পেছনে ফেলে মধ্যপ্রাচ্যের এ দেশটি আফ্রিকায় বিনিয়োগের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত আরব আমিরাতের কোম্পানিগুলো আফ্রিকায় ১১০ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্প ঘোষণা করেছে, যার মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতেই ৭২ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ। এটি ব্রিটেন, ফ্রান্স ও চীনের বিনিয়োগের দ্বিগুণ। তবে এ বিনিয়োগ শ্রম অধিকার ও পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
ব্রিটিশ গবেষণা সংস্থা চ্যাথাম হাউসরে সহযোগী ফেলো আহমেদ আবুদু বলেন, “আমিরাত আফ্রিকায় জ্বালানি রূপান্তরের জন্য বিনিয়োগের ঘাটতি পূরণ করলেও শ্রমিক অধিকার ও পরিবেশ সুরক্ষায় তাদের অগ্রাধিকার কম, যা উদ্বেগজনক।” আমিরাতি কোম্পানিগুলো কৃষি, টেলিকম ও বন্দর পরিচালনাসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করেছে। দুবাইয়ের রাজপরিবারের একটি কোম্পানি জিম্বাবুয়ে, লাইবেরিয়া ও জাম্বিয়ার বনাঞ্চল কিনে কার্বন ক্রেডিট প্রকল্পের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করছে। অন্যদিকে, আমিরাতের বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডছয়টি বন্দর পরিচালনার পাশাপাশি নতুন দুটি বন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। এছাড়া আবুধাবি পোর্টস ২০১৩ সাল থেকে গিনির কামসার বন্দর পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে।
তবে এ বিনিয়োগের কিছু প্রকল্প এখনও চুক্তির প্রাথমিক পর্যায়ে। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৩ সালে মৌরিতানিয়ায় ৩৪ বিলিয়ন ডলারের গ্রিন হাইড্রোজেন প্রকল্প। গবেষণা সংস্থাগুলোর মতে, বিনিয়োগের এই ধারা আফ্রিকার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য সুযোগ সৃষ্টি করলেও বিনিয়োগ আইন ও শ্রম অধিকার পরিপালনে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। একই সঙ্গে, আফ্রিকা থেকে আরব আমিরাতে স্বর্ণ পাচারের ঘটনায়ও উদ্বেগ বাড়ছে। সুইসএইড নামের একটি এনজিও জানিয়েছে, ২০১২ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে আফ্রিকার স্বর্ণ রপ্তানি ও আমদানির হিসাবে বড় গড়মিল দেখা গেছে, যার বাজার মূল্য প্রায় ১১ হাজার ৫৩০ কোটি ডলার।


