সরকারি প্রশাসনে আন্তঃক্যাডার বৈষম্য দূরীকরণের দাবিতে মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) কলমবিরতি কর্মসূচির মাধ্যমে সরব হয়েছেন ২৫টি ক্যাডারের কর্মকর্তারা। ‘আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদ’-এর উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়। পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দাবি আদায় না হলে আগামী ৪ জানুয়ারি ঢাকায় বড় সমাবেশ করা হবে।
মঙ্গলবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মকর্তারা নিজ নিজ দপ্তরের সামনে ব্যানার টানিয়ে কলমবিরতি কর্মসূচি পালন করেন। অংশগ্রহণকারী ক্যাডারগুলোর মধ্যে ডাক, কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, রেলওয়ে, সমবায়, এবং পরিসংখ্যান ক্যাডারের কর্মকর্তারা ছিলেন। পরিষদের সমন্বয়ক মোহাম্মদ মফিজুর রহমান বলেন, “আমাদের দাবি স্পষ্ট—উপসচিব পদে কোটাপদ্ধতি বাতিল করতে হবে, প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারণী পদে সংশ্লিষ্ট ক্যাডারের কর্মকর্তাদের বসাতে হবে এবং সব ক্যাডার কর্মকর্তার জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচি দেব।”
পরিষদ জানায়, কলমবিরতির পর আগামী বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) সারাদেশে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হবে। দাবি পূরণ না হলে ৪ জানুয়ারি ঢাকায় সমাবেশের মাধ্যমে পরবর্তী পরিকল্পনা ঘোষণা করা হবে।
বর্তমানে উপসচিব পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে প্রশাসন ক্যাডারের জন্য ৫০ শতাংশ এবং অন্যান্য ক্যাডারের জন্য ৫০ শতাংশ কোটার প্রস্তাব দিয়েছে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন। এছাড়া শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্যাডারকে আলাদা করার সুপারিশ করা হচ্ছে। এই সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে অন্যান্য ক্যাডারের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।
অন্যদিকে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এ ধরনের সংস্কার তাদের পদোন্নতির সুযোগ সীমিত করবে। ফলে ক্যাডারগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব তীব্র আকার ধারণ করেছে।
গত সেপ্টেম্বর এই বৈষম্য নিরসনের লক্ষ্যে ‘আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদ’ গঠিত হয়। তখন থেকেই সংগঠনটি বিভিন্ন দাবিতে সক্রিয়। সম্প্রতি সচিবালয়ে প্রশাসন ক্যাডারের বড় জমায়েত হয়, যেখানে প্রশাসন ক্যাডারের পক্ষ থেকে সব গুরুত্বপূর্ণ পদ নিজেদের জন্য সংরক্ষণের দাবি তোলা হয়।
এই বিরোধ নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে প্রশাসনিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।


