১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি থাকার সময়ে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমেদ, মো. মনসুর আলী এবং এএইচএম কামরুজ্জামান। প্রবাসী সরকারের অধীনে তারা স্বাধীনতা অর্জনের জন্য অনন্য ভূমিকা রাখেন, যেখানে সৈয়দ নজরুল ইসলাম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দীন আহমেদ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মনসুর আলী অর্থমন্ত্রী এবং কামরুজ্জামান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক জনমত গঠন, এবং মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার মতো জটিল দায়িত্ব সফলভাবে সম্পাদন করেন এই নেতারা।
অনেক ইতিহাসবিদের মতে, তাদের অবদান ছাড়া বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন সম্ভব হত না। কিন্তু স্বাধীনতার পর এই নেতাদের যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদের মতে, মুজিবনগর সরকার শুধু চার জন নয়, বরং ছয়জন স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করেই পরিচালিত হয়েছিল। তিনি তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খন্দকার মোশতাক আহমেদ এবং মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি এমএজি ওসমানীর নামও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেন। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশে ফিরে আসার পর, এসব নেতাদের অবদানকে যেন আড়ালে ফেলে দেওয়া হয়।
১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে হত্যার পর রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরু হয়। এই চার নেতাকে কারাবন্দি করা হয় এবং একই বছরের ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তাদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এরপর থেকেই আওয়ামী লীগ প্রতি বছর ৩ নভেম্বর দিনটিকে ‘জেল হত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে। তবে তাদের অবদান নিয়ে যথাযথ আলোচনা বা স্বীকৃতি মেলেনি বলেই দাবি ইতিহাসবিদদের।
আওয়ামী লীগের রাজনীতির ইতিহাসে জাতীয় চার নেতার পরিবারের সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাজউদ্দীন আহমেদের সন্তান সোহেল তাজ স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, সৈয়দ নজরুল ইসলামের ছেলে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম মন্ত্রী এবং মো. মনসুর আলীর ছেলে মোহাম্মদ নাসিমও মন্ত্রী ছিলেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ মনে করেন, এটি শুধুমাত্র ‘সান্ত্বনা পুরস্কার’ ছিল এবং আসল স্বীকৃতির অভাব রয়ে গেছে।


