দেশের ব্যাংক খাতে সামগ্রিক তারল্য সংকট সত্ত্বেও আইএফআইসি ব্যাংকের আমানত অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করলে ব্যাংকের আমানত বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা দৃশ্যমান হয়। অক্টোবর মাস থেকে শুরু হওয়া এই প্রবৃদ্ধি বছর শেষে ৭.৩ শতাংশে পৌঁছে, যার ফলে আমানত দাঁড়ায় ৪৭,৪০০ কোটি টাকা, পূর্ববর্তী বছরের ৪৪,০০০ কোটি টাকা থেকে। চলতি বছরের জানুয়ারি-জুন অর্ধবার্ষিকীতে আরও ৭ শতাংশ বৃদ্ধির ফলে আমানত ৫০,৭০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। বর্তমানে ব্যাংকের আমানত প্রায় ৫২,০০০ কোটি টাকা বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
পুনর্গঠিত পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন মো. মেহমুদ হোসেন। একজন জ্যেষ্ঠ ব্যাংকার বণিক বার্তাকে জানান, ‘আইএফআইসি ব্যাংকের ৩৩ শতাংশ শেয়ার সরকারির, ব্যাংকটি প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী সেবা দিয়ে আসছে। পুনর্গঠিত পরিচালনা পর্ষদ গ্রাহকের আস্থা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।’
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে ব্যাংকের তারল্য সূচকও ভালো অবস্থানে রয়েছে। ২১ আগস্ট পর্যন্ত ঋণ-আমানতের অনুপাত ৮৪.১৩ শতাংশ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশিত উচ্চসীমা ৮৭ শতাংশের চেয়ে কম। জুন শেষে এলসিআর ২২৪.৭ শতাংশ ও এনএসএফআর ১১৩.১ শতাংশ ছিল, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ন্যূনতম সীমার চেয়ে বেশি। সংরক্ষিত নগদ তহবিল ও সংবিধিবদ্ধ সঞ্চিতিও ধারাবাহিকভাবে বজায় রয়েছে।


