বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের চলমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট কাটাতে জরুরি ভিত্তিতে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রয়োজন। তিনি বিশ্বাস করেন, নির্বাচনই জাতিকে সংকট থেকে মুক্তির পথ দেখাবে।
শনিবার (১১ জানুয়ারি) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এবি পার্টির জাতীয় কাউন্সিলে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মির্জা ফখরুল এই কথা বলেন। তিনি বলেন, “দেশ আজ এক ভয়াবহ দানবের কবলে। আমরা নতুন দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছি। এই স্বপ্ন যাতে ভেঙে না যায়, সেটাই আমাদের মূল চ্যালেঞ্জ। এজন্য ঐক্যের বিকল্প নেই। বিভেদ সৃষ্টি করে আমাদের দমানো যাবে না। আমরা এগিয়ে যাব, তবে আমাদের ধৈর্য ধরতে হবে।”
মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, গত ১৬ বছরে বিএনপির ৬০ লাখ নেতাকর্মীর নামে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। এ সময়ে প্রায় ৭০০ জন নেতাকর্মী গুমের শিকার হয়েছেন এবং নিহত হয়েছেন প্রায় ২০ হাজার। এই নিপীড়নের মধ্যেও বিএনপি গণতন্ত্রের পক্ষে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি জানান।
তিনি বলেন, “আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচন চাই। তবে শুধু নির্বাচনের মাধ্যমে সংকটের সমাধান হবে না। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় সংস্কার জরুরি। আমাদের লক্ষ্য কেবল ক্ষমতা পরিবর্তন নয়, বরং একটি ঐক্যবদ্ধ জাতীয় সরকার গঠন।” মির্জা ফখরুল আরও বলেন, “দেশের অর্থনীতি এখন ধ্বংসের মুখে। ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে, সাধারণ মানুষের জীবনযাপন কঠিন হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতিও অত্যন্ত ভঙ্গুর। এ অবস্থায় দ্রুত নির্বাচন প্রয়োজন। নির্বাচন হলেই দেশের সব সংকট কাটবে।”
তিনি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমাদের স্বপ্ন একটাই—গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা। আসুন, সবাই মিলে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ি।” বক্তৃতার শেষ পর্যায়ে মির্জা ফখরুল আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও জাতীয় স্বার্থে সবাইকে এক হয়ে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য অভিন্ন—গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা। ঐক্যই পারে দেশকে সংকটমুক্ত করতে।”


