লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়ন ও মঙ্গলের জন্য রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। সম্প্রতি যুগান্তর ডিজিটালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। অলি আহমদ বলেন, “বাংলাদেশে বর্তমানে রাষ্ট্র পরিচালনার মতো অভিজ্ঞতা আমার ছাড়া কারও নেই। আমি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সঙ্গে পাঁচ বছর রাষ্ট্র পরিচালনায় যুক্ত ছিলাম। তিনবার মন্ত্রী এবং ছয়বার সংসদ সদস্য হিসেবে কাজ করেছি। এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশের জন্য দায়িত্ব পালন করতে আমি প্রস্তুত।”
অলি আহমদের মতে, রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “যারা বর্তমানে রাষ্ট্র পরিচালনায় আছেন, তাদের অনেকেরই মন্ত্রী হওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে, কিন্তু পুরো রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা নেই। এ ক্ষেত্রে আমি নিজেকে যোগ্য মনে করি। দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণের জন্য দায়িত্ব নিতে আমি প্রস্তুত।” অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কার্যক্রম নিয়ে অলি আহমদ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “সরকারের কাজ অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে হলে আরও দ্রুত ও পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে হবে। প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের জন্য সুস্পষ্ট রূপরেখা তৈরি করা উচিত ছিল। প্রধান উপদেষ্টা যদি মন্ত্রীদের হাতে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা তুলে দিতেন, তাহলে সরকার অনেক সফল হতো।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রচুর সময় ব্যয় হচ্ছে। একটি সাধারণ পোস্টিং করতেও দুই সপ্তাহ লেগে যায়। এ ধরনের ধীরগতি দেশের জন্য ক্ষতিকর। দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সংস্কৃতি চালু করতে হবে।” সরকারের কমিটির কার্যক্রম নিয়েও তিনি অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। অলি আহমদ বলেন, “কমিটিগুলো সঠিকভাবে কাজ করছে না। তাদের উচিত ছিল প্রথমে বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে একটি রূপরেখা তৈরি করা। এরপর সেই খসড়া রূপরেখা রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঠিয়ে তাদের মতামত নেওয়া। এরপর সারাদেশে কর্মশালার মাধ্যমে বিষয়টি চূড়ান্ত করা যেত। এতে রাজনৈতিক মতপার্থক্য কমে আসত এবং সবাই সমন্বিতভাবে একটি কার্যকর পরিকল্পনায় অংশ নিতে পারত।”
অলি আহমদ মনে করেন, এই ধরনের কর্মপদ্ধতি অনুসরণ করলে দেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হতো। তিনি বলেন, “দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে সঠিক পরিকল্পনা ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি বিশ্বাস করি, আমার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করতে পারলে দেশের মানুষ উপকৃত হবে।”


