ধানমন্ডির সীমান্ত সম্ভার মার্কেটের ক্রাউন ডায়মন্ড অ্যান্ড জুয়েলার্স শোরুমে মাত্র ৮ মিনিটে আড়াই কোটি টাকার স্বর্ণ চুরির ঘটনা ঘটেছে। সংঘবদ্ধ চোরচক্র অভিনব কৌশলে শাটার কেটে স্বর্ণালংকার লুট করে দ্রুত পালিয়ে যায়। ডিবি দক্ষিণের যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম জানান, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, তিনজনের একটি দল পরিকল্পিতভাবে এই চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে। এক ব্যক্তি চাদর দিয়ে দোকানের সামনে শেড তৈরি করে এবং অপরজন তালা কাটে। এরপর তৃতীয় ব্যক্তি শোরুমে ঢুকে ডিসপ্লে থেকে স্বর্ণালংকার ব্যাগে ভরে সরে পড়ে।
চুরির ঘটনায় ধানমন্ডি থানায় শোরুমের মালিক কাজী আকাশ একটি মামলা দায়ের করেন। তদন্তে নেমে ডিবি পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তায় চোরদের শনাক্ত করে। কক্সবাজার ও কুমিল্লায় চালানো অভিযানে চোরচক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। ডিবি সূত্রে জানা যায়, প্রথমে কক্সবাজার থেকে রুবেল নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যে কুমিল্লার দেবীদ্বার থেকে সফিক ওরফে সোহেলকে আটক করা হয়। তাদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে মুরাদনগরের একটি জুয়েলারি দোকান থেকে ৫০ ভরি ৮ আনা স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়।
এছাড়া আরও এক অভিযানে মুরাদনগর এলাকা থেকে সাদ্দাম হোসেন নামে আরেকজনকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে ২৮ ভরি ১৪ আনা স্বর্ণালংকার এবং ২১ ভরি ১০ আনা গলিত স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে। ডিবি কর্মকর্তারা জানান, চুরির ঘটনায় আরও ৮ থেকে ৯ জন জড়িত রয়েছে। চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেফতার এবং চুরি হওয়া বাকি স্বর্ণালংকার উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে রোববার আয়োজিত ব্রিফিংয়ে ডিবির যুগ্ম কমিশনার বলেন, “চোরচক্র অত্যন্ত সুসংগঠিত। তারা পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজটি সম্পন্ন করেছে। দ্রুত অভিযান চালিয়ে আমরা মূল অপরাধীদের ধরতে সক্ষম হয়েছি।” ব্রিফিংয়ে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এবং রমনা জোনের ডিসি মাসুদ আলম উপস্থিত ছিলেন।


