রংপুর জেলার সচেতন ছাত্র সমাজ তাবলীগ জামাতের অভ্যন্তরীণ বিভেদ নিরসনে তিন দফা প্রস্তাবনা দিয়েছে। চলমান সংকটের স্থায়ী সমাধান না হলে আগামী ২০ জানুয়ারির পর প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা। রোববার (১২ জানুয়ারি) বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সচেতন ছাত্র সমাজের পক্ষ থেকে এই প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মোহাম্মদ নুরুজ্জামান। তিনি বলেন, “তাবলীগ জামাত মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের প্রতীক। কিন্তু অভ্যন্তরীণ বিভেদ ও সংঘর্ষের কারণে এই জামাতের কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে এসব বিভেদের ফলে প্রাণহানির মতো দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে, যা শান্তি-শৃঙ্খলার জন্য হুমকি।”
তাবলীগ জামাতের মধ্যে বিবদমান দুই পক্ষের মধ্যে এক পক্ষ চরম বৈষম্যের শিকার হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই পরিস্থিতি শুধু তাবলীগ জামাত নয়, বৃহত্তর মুসলিম সমাজের ঐক্যকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এ সমস্যা সমাধানে সরকারকেই উদ্যোগ নিতে হবে।”
সংবাদ সম্মেলনে তিন দফা প্রস্তাবনা পেশ করা হয়: ১. উভয় পক্ষের মুরুব্বীদের নিয়ে তাদের নিজ নিজ কার্যক্রম পরিচালনার নিশ্চয়তা। ২
. কাকরাইল মসজিদ, টঙ্গীর ময়দানসহ দেশের প্রতিটি মসজিদে উভয় পক্ষের সমান অধিকার নিশ্চিত করা।
৩. উভয় পক্ষকে উস্কানিমূলক বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখা এবং সংঘটিত হত্যাকাণ্ডগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা।
সচেতন ছাত্র সমাজের আরেক সদস্য বলেন, “সরকার কিছু উদ্যোগ নিলেও তা যথেষ্ট নয়। আমরা চাই একটি ন্যায়ভিত্তিক স্থায়ী সমাধান।” তারা আরও জানান, আগামী ২০ জানুয়ারির মধ্যে প্রস্তাবনার আলোকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ‘সচেতন ছাত্র সমাজ’ ও সচেতন নাগরিকদের সঙ্গে নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের সামনে পূর্ব ঘোষিত অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে তাবলীগ জামাতের একটি অংশের সাদপন্থি মুরুব্বী বিরোধিতায় বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকেও দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে বলে মত দেন তারা।


