কিডনির সমস্যাকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। আপনার অজান্তেই ভেতরে ভেতরে শেষ করে দিতে পারে এই রোগ। খুব জটিল অবস্থা না হওয়া পর্যন্ত সাধারণত লক্ষণগুলো ভালোভাবে প্রকাশও পায় না। তাই কিডনি রোগের প্রাথমিক লক্ষণগুলো আগে থেকেই জেনে রাখা জরুরি। তবে আরও কিছু লক্ষণ আছে কিডনি নষ্ট হওয়ার।’ বাংলাদেশ কিডনি ফাউন্ডেশনের নেফ্রোলজিস্ট ডা. ফারহানা ইসলাম বলেন
প্রথম দিকে রোগী তেমন বুঝতে পারেন না। কিন্তু কয়েকটি ছোটখাটো পরিবর্তনই হতে পারে বড় সমস্যার ইঙ্গিত। তাই এগুলো অবহেলা করা যাবে না।”
১️ প্রস্রাবে পরিবর্তনঃ
প্রস্রাবের রঙ ঘন হয়ে যাওয়া, ফেনা তৈরি হওয়া, প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত আসা বা প্রস্রাব কমে যাওয়া—এসবই কিডনির সমস্যার সতর্ক সংকেত।
২️ শরীরে ফোলাঃ
চোখের নিচে, হাত-পা বা গোড়ালিতে ফোলা দেখা দিলে কিডনি সঠিকভাবে তরল বের করতে পারছে না—এটি তার প্রমাণ হতে পারে।
৩ সবসময় ক্লান্তিঃ
কিডনি সমস্যার অন্যতম লক্ষণ হলো কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলা। কিডনির মূল কাজ রক্ত পরিশুদ্ধ করা। তাই কিডনি ঠিকমতো কাজ না করলে, রক্তে বিষাক্ত ও অপ্রয়োজনীয় উপাদান বাড়তে থাকে। এই উপাদানগুলোর কারণেই শরীর তার কর্মক্ষমতা হারায়। শরীরে ক্লান্তি ভাব আসে।
৪️ উচ্চ রক্তচাপঃ
হঠাৎ রক্তচাপ বেড়ে গেলে তা কিডনির সমস্যার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত হতে পারে।
৫️ পিঠে বা কোমরে ব্যথাঃ
পিঠের নিচের অংশে বা কোমরে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা কিডনির সংক্রমণ বা পাথরের ইঙ্গিত হতে পারে।
যেকোনো একটি লক্ষণ দীর্ঘদিন থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
নিয়মিত রক্তচাপ ও রক্তের ক্রিয়েটিনিন টেস্ট করুন।
লবণ কম খান এবং পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের রোগীরা বিশেষ সতর্ক থাকবেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিডনির রোগ প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত করা গেলে জটিলতা অনেকটা এড়ানো সম্ভব। তাই সামান্য উপসর্গ দেখা দিলেও অবহেলা না করে দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো উচিত।


