আশিয়ান ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের ‘আশিয়ান সিটি’ প্রকল্পের সব ধরনের বিজ্ঞাপন, বিক্রয় ও প্রচার কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)।
সম্প্রতি রাজউকের নগর পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন শাখার উপ-নগর পরিকল্পনাবিদ-১ মো. মোস্তাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক নোটিশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
আশিয়ান ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডকে কেবল ৩৩ একর জমির অনুমোদন দেওয়া হলেও, এক হাজার একরেরও বেশি জমি দেখিয়ে প্রতিষ্ঠানটি তাদের আশিয়ান সিটি প্রকল্পের প্রচারণা করছে বলে জানিয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)।
একই সঙ্গে প্রকল্পের সীমানা যাচাই ও অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে প্রতিষ্ঠানটিকে আলটিমেটাম দেওয়া হয়।
১৭ আগস্ট রাজউকের উপ-নগর পরিকল্পনাবিদ মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আদালতের রায়ে আশিয়ান সিটি কেবল ৩৩ একরের মধ্যে কার্যক্রম চালাতে পারবে। কিন্তু মাঠ পর্যায়ের পরিদর্শনে দেখা গেছে তারা ৬০ থেকে ৭০ একর জমি ব্যবহার করছে।’
রাজউকের নোটিশে বলা হয়েছে, ঢাকা জেলার দক্ষিণখান মৌজায় গড়ে ওঠা আশিয়ান সিটি প্রকল্প এখনো অনুমোদন পায়নি। সুপ্রিম কোর্ট অনুমোদিত মাত্র ৩৩ একর জমিতে আবাসিক উন্নয়নের অনুমতি দিলেও প্রতিষ্ঠানটি অনুমোদন ছাড়াই সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড ও অনলাইনের মাধ্যমে প্লট বিক্রি করছে, যা আইনত সম্পূর্ণ অবৈধ।
এতে আরও বলা হয়েছে, ২০০৪ সালের ভূমি উন্নয়ন বিধিমালা (সংশোধিত ২০১১ ও ২০১৫) এবং ২০১০ সালের রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী, অনুমোদন ছাড়া কোনো জমি বিক্রি, হস্তান্তর বা বিজ্ঞাপন প্রচার করলে ন্যূনতম ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ড হতে পারে।
রাজউক জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা না দিলে প্রকল্পের সব বিজ্ঞাপন, বিক্রয় কার্যক্রম ও সাইনবোর্ড জোরপূর্বক সরিয়ে ফেলা হবে এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূত্র ও গণমাধ্যমের তথ্যমতে, আশিয়ান ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া দীর্ঘদিন ধরে আইন ও রাজউকের বিধি অমান্য করে আবাসন ব্যবসা চালাচ্ছেন।
তার বিরুদ্ধে খিলক্ষেত, উত্তরা ও ভাটারা থানায় জুলাই আন্দোলনের অন্তত ১২টি হত্যা মামলা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে জামিন জালিয়াতির অভিযোগও আছে এবং বর্তমানে তিনি পলাতক।
প্রকল্পের অনুমোদন পেতে হলে প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন-২০০০; রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন আইন- ২০১০ এবং ভূমি উন্নয়ন বিধিমালা- ২০০৪ (সংশোধিত) এর সব শর্ত পূরণ করতে হবে। এর আগে কোনো উন্নয়ন বা বিক্রয় কার্যক্রম চালানো যাবে না।


