পটুয়াখালীতে ২০১৩ সালে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরীর গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় ১১ বছর পর মামলা দায়ের করা হয়েছে। ৮ নভেম্বর, শুক্রবার সন্ধ্যায় পটুয়াখালী সদর থানায় মেহেদী হাসান জীবন নামে এক ব্যক্তি মামলাটি দায়ের করেন। এতে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা মুক্তা মিয়াকে প্রধান আসামি করে ৫৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, সাথে ৩০-৪০ জন অজ্ঞাত আসামি হিসেবে অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ২৫ অক্টোবর বদরপুর বাজারে দলীয় কর্মসূচি শেষে শহরে ফেরার সময় শিয়ালী বাজার এলাকায় সাবেক মন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরীর গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়। তখন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা এই হামলা চালায়। হামলার ফলে জেলা কৃষক দলের সভাপতি এস এম আব্দুর রব হাওলাদার, ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি মোহন সিকদার, যুবদলের সদস্য দেলোয়ার হোসেন ও শফিক টেইলার গুরুতর আহত হন।
মামলার বাদী মেহেদী হাসান জীবন জানান, তার বাবা ওই হামলার সময় গুরুতর আহত হন এবং যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়ায় তিনি আরও ভুগে যান। তিনি বলেন, “তৎকালীন সরকারের আমলে আমরা ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম, কারণ সেই সময়ে সরকার আমাদের সব ধরনের সাহায্য থেকে বঞ্চিত করেছিল। তবে ৫ আগস্ট ওই সরকারের পতনের পর, জনগণের আন্দোলনের শক্তিতে আমরা এখন ন্যায়বিচারের আশা করছি।”
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমতিয়াজ মাহমুদ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং পুলিশ দ্রুত তাদের গ্রেপ্তারে কাজ করছে।
এই হামলার ঘটনায় ১১ বছর পর মামলা হওয়ায় স্থানীয় রাজনীতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক মহলে এ ঘটনায় এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার জন্য সরব হয়েছেন। মামলার ফলাফল যে যেকোনো সময় স্থানীয় রাজনীতিতে একটি নতুন মোড় নিতে পারে, এমন আশঙ্কাও ব্যক্ত করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


