দ্বৈত নাগরিকত্ব ও তথ্য গোপনের অভিযোগে ঢাকা-১১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. এম এ কাইয়ুমের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে করা রিট খারিজের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেছেন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। এ ঘটনায় নির্বাচনী মাঠে নতুন করে আইনি উত্তাপ তৈরি হয়েছে।
শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) নাহিদ ইসলামের পক্ষে আইনজীবী অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মূসা গণমাধ্যমকে জানান, হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন দাখিল করা হয়েছে। তিনি বলেন, রোববার চেম্বার বিচারপতির আদালতে এ আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এর আগে, গত ৩ ফেব্রুয়ারি দ্বৈত নাগরিকত্ব ও তথ্য গোপনের অভিযোগ তুলে ড. এম এ কাইয়ুমের প্রার্থিতার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিট সরাসরি খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন লিপু ও অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মূসা। অপরদিকে, কাইয়ুমের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান খান এবং ব্যারিস্টার কাজী আক্তার হোসেন।
উল্লেখ্য, গত ২ ফেব্রুয়ারি নাহিদ ইসলাম রিট দায়ের করে অভিযোগ করেন যে, ড. এম এ কাইয়ুম দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত তথ্য গোপন করেছেন, যা নির্বাচনী আইনের লঙ্ঘন। রিটে কাইয়ুমের প্রার্থিতা স্থগিতের পাশাপাশি প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়।
এর আগে নির্বাচন কমিশন ঢাকা-১১ আসনে নাহিদ ইসলাম ও ড. এম এ কাইয়ুম—উভয়ের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে। ফলে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগের শরণাপন্ন হওয়ায় বিষয়টি এখন দেশের সর্বোচ্চ আদালতে নিষ্পত্তির অপেক্ষায়। এ মামলার রায় ঢাকা-১১ আসনের নির্বাচনী সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


