নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠ্যবই সরবরাহে বড় ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে। বেশিরভাগ শিক্ষার্থী এখনো নতুন বই হাতে পায়নি। এতে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে হতাশা তৈরি হচ্ছে শিক্ষার্থীদের মাঝে। রাজধানীর মনিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজে আগামী রোববার থেকে বই বিতরণ শুরু হবে বলে জানা গেছে। তবে সব শিক্ষার্থী একসঙ্গে বই পাবে না। ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বছরের প্রথম দিন থেকে বই বিতরণ শুরু হলেও অধিকাংশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এখনো পুরো বই পায়নি। একই অবস্থা মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজেও।
মনিপুর স্কুলের ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাফিসা বলেন, “স্কুলে বই আসেনি বলে এখনো পড়াশোনা শুরু করতে পারিনি। কবে বই পাবো সেটা নিয়েই চিন্তায় আছি।” মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী শাহরিয়ার বলেন, “দুদিন ধরে স্কুলে যাচ্ছি, কিন্তু বই পাচ্ছি না। কবে পাবো সেটাও কেউ জানায়নি।” অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি জিয়াউল হক দুলু বলেন, “বছরের শুরুতে শিক্ষার্থীরা বই না পেলে পড়াশোনার আগ্রহ কমে যায়। দ্রুত বই বিতরণ না হলে মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে তারা।”
জানা গেছে, নতুন শিক্ষাবর্ষে সাড়ে ৪ কোটি শিক্ষার্থীর জন্য ৪১ কোটি বই প্রয়োজন। তবে এখন পর্যন্ত মাত্র ৬ কোটি বই বিতরণ করা হয়েছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা, নতুন শিক্ষাক্রম পরিবর্তন ও ছাপার কাজে বিলম্বের কারণে বই পৌঁছাতে মার্চ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।
এনসিটিবির পরিকল্পনা ছিল, বছরের প্রথম দিন অন্তত তিনটি বই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়ার। তবে পরিকল্পনা অনুযায়ী তা সম্ভব হয়নি। শিক্ষা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ এ বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “সব বই সময়মতো সরবরাহ করতে না পারায় আমরা অনুতপ্ত।”


