উপসচিব পদে প্রশাসন ক্যাডারের কোটা হ্রাস করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে রাজধানীর ইস্কাটনে বিয়াম ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে এক যৌথ সভার আয়োজন করা হয়েছে। বুধবার বেলা ১১টায় এই সভা আয়োজন করে বিসিএস (প্রশাসন) কল্যাণ বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড এবং বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন (বাসা)। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাসার সভাপতি ড. আনোয়ার উল্ল্যাহ। তিনি তাঁর বক্তব্যে প্রশাসন ক্যাডারের ভূমিকা ও অবদানের কথা তুলে ধরে বলেন, “পদোন্নতিতে এই ধরনের পরিবর্তন শুধু প্রশাসন ক্যাডারের জন্যই নয়, দেশের সার্বিক প্রশাসনিক কাঠামোর জন্যও ক্ষতিকর।” প্রথম বক্তা হিসেবে বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব সোহেল রানা বলেন, “উপসচিব পদে ৫০ শতাংশ হারে কোটা কমানো একটি ষড়যন্ত্র। এই সিদ্ধান্ত বৈষম্যমূলক এবং অযৌক্তিক। এটি রাষ্ট্রের কার্যক্রমকে দুর্বল করার অপচেষ্টা হতে পারে।”
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিসিএস (প্রশাসন) কল্যাণ বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি এবিএম আব্দুস সাত্তার এবং বাসার মহাসচিব মাহবুবুর রহমান। তাঁরা বলেন, প্রশাসন ক্যাডারের অধিকার ক্ষুণ্ণ করার যে কোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আলোচক হিসেবে সভায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, জাতীয় নদীরক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরী, বিএফইউজে মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, ডিইউজে সভাপতি শহীদুল ইসলাম এবং ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।
তাঁরা বলেন, প্রশাসন ক্যাডারের উন্নয়ন এবং স্বার্থরক্ষার জন্য কোটা সংস্কারের এমন সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা উচিত। এটি দেশের প্রশাসনিক কাঠামোকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে সাহায্য করবে। প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত প্রশাসন ক্যাডারের অবসরপ্রাপ্ত এবং কর্মরত কর্মকর্তারা একমত হন যে, সরকার যদি এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা না করে, তবে পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর কর্মসূচি নেওয়া হতে পারে।


