কৃষি খাতে প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধি এবং আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনায় সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে সরকার নতুন উদ্যোগ হিসেবে ‘কৃষক কার্ড’ চালু করেছে। প্রাথমিকভাবে পাইলট প্রকল্প আকারে শুরু হওয়া এই কার্যক্রমে দেশের আটটি বিভাগে মোট ২১ হাজার ১৪ জন কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাস্তবায়িত এ কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের সরাসরি সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) বাংলাদেশ সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতর (পিআইডি) আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, এই প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে আগামী অর্থবছর থেকে এর পরিসর আরও বাড়ানো হবে। পর্যায়ক্রমে সারা দেশের প্রান্তিক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকদের এ সুবিধার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। প্রাথমিকভাবে প্রতিটি যোগ্য কৃষক বছরে ২ হাজার টাকা করে নগদ প্রণোদনা পাবেন।
এছাড়া কৃষকদের জন্য কৃষিঋণ প্রাপ্তি সহজ করতে এই কার্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানানো হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্প বাস্তবায়নে উন্নয়ন বাজেট থেকে প্রায় ১ হাজার ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি কৃষি উপকরণ যেমন বীজ, সার ও অন্যান্য সহায়তা প্রদানসহ মোট ১০ ধরনের সুবিধা ধাপে ধাপে যুক্ত করা হবে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কৃষক কার্ড শুধু আর্থিক সহায়তার মাধ্যমই নয়, বরং একটি সমন্বিত কৃষি ডাটাবেস গঠনের ভিত্তি হিসেবেও কাজ করবে। এর মাধ্যমে কৃষকদের তথ্য ব্যবস্থাপনা সহজ হবে এবং সরকারি সহায়তা আরও স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে বিতরণ করা সম্ভব হবে।
একইসঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিয়েও সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরা হয়। ভূমিকম্পসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় হ্যাজার্ড ম্যাপিং, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড কঠোরভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়। এই উদ্যোগকে কৃষি উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষকের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।


