Thursday, June 25, 2026
Home অর্থ-বানিজ্য পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে প্রচেষ্টা যেন অব্যাহত থাকে: গভর্নর

পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে প্রচেষ্টা যেন অব্যাহত থাকে: গভর্নর

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, পাচার হওয়া অর্থ ফেরানোর উদ্যোগ থেমে গেলে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতি হতে পারে। মামলার মাধ্যমে অর্থ ফেরানোর পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে অন্তত পাঁচ বছর সময় লাগবে। তিনি বৃহস্পতিবার ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন।

রাজধানীর পল্টনে ইআরএফ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘সামষ্টিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও ব্যাংকিং খাতের সংস্কার’ শীর্ষক এই আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মুস্তাফিজুর রহমান এবং পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী। গভর্নর বলেন, অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ সবসময়ই ছিল, তবে বর্তমান পরিস্থিতি আরও জটিল। তিনি উল্লেখ করেন, দেশে একসঙ্গে বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্যহীনতা, মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব সংকট এবং ব্যাপক অর্থপাচারের মতো সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবে আশার বিষয় হলো বৈদেশিক বাণিজ্যের চলতি হিসাব ইতিবাচক হয়েছে, আর্থিক ঘাটতি কমেছে এবং মূল্যস্ফীতি কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।

অর্থপাচার রোধে নেওয়া পদক্ষেপ প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, বিভিন্ন দেশ থেকে সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে এবং যৌথ তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা কেন আশাবাদী হবো না? মালয়েশিয়া, অ্যাঙ্গোলা, নাইজেরিয়ার মতো দেশগুলো পাচার হওয়া অর্থ ফেরত এনেছে, আমাদেরও সম্ভব। তবে এটি দীর্ঘমেয়াদি একটি প্রক্রিয়া।” ব্যাংকিং খাতের নীতিগত পরিবর্তন নিয়েও গভর্নর আলোচনা করেন। তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকে বিপুল অর্থ ঋণ হিসেবে দেওয়া হলেও তা যথাযথভাবে ফেরত আসেনি। এ কারণে বড় ধরনের নীতি সংস্কার দরকার। তিনি আরও বলেন, ব্যাংক রেজুলেশন অ্যাক্টের খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে, যা দুর্বল ব্যাংক পুনঃগঠন এবং আমানতকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।

সভায় অধ্যাপক ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, স্বাধীনতার পর একসঙ্গে এত বেশি অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ দেখা যায়নি। জনগণের প্রত্যাশার চাপ এবং পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এসব সমস্যাকে আরও গভীর করেছে। অন্যদিকে, পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী বলেন, সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকও ঘুরে দাঁড়াতে পারে। তিনি উদাহরণ হিসেবে পূবালী ব্যাংকের সাফল্যের কথা তুলে ধরেন।অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও কার্যকর আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অপরিহার্য। ভবিষ্যৎ সরকারগুলোর উচিত এই উদ্যোগ অব্যাহত রাখা, যাতে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের পথ সুগম হয়।

আমি একটি বিকল্প সংবাদ প্রতিবেদন তৈরি করেছি যা পাচার হওয়া অর্থ ফেরতের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। আপনি যদি কোনো পরিবর্তন চান, জানাবেন!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

মার্কেন্টাইল ব্যাংকের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ২৭তম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আজ বুধবার (২৪ জুন) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ৩১শে ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে...

এনসিসি ব্যাংকের ২১ শতাংশ লভ্যাংশ অনুমোদন

ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স (এনসিসি) ব্যাংক পিএলসি.-এর ৪১তম বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) ২০২৫ অর্থবছরের জন্য ২১ শতাংশ লভ্যাংশ অনুমোদন করেছেন শেয়ারহোল্ডাররা। এর মধ্যে ১৭...

মুদি দোকান, মিষ্টি-বিউটি পার্লারসহ ১৬ ব্যবসা খাতে কর বসাচ্ছে সরকার

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাজস্ব আদায় বাড়াতে এবং কর ব্যবস্থার আওতা সম্প্রসারণে মুদি দোকান, মিষ্টির দোকান, বিউটি পার্লার ও রেস্টুরেন্টসহ ১৬টি ব্যবসা খাতকে ভ্যাটের নির্দিষ্ট...

দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা বরাদ্দ

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটের মধ্যে বহুল আলোচিত দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে নতুন অর্থবছরের বাজেটে অর্থ বরাদ্দের কথা জানিয়েছে সরকার।...

Recent Comments