জাতীয় গণহত্যার ঘটনার তদন্তের অংশ হিসেবে জুলাই ও আগস্ট মাসে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় সাবেক মন্ত্রীসহ মোট ৩৯ জনকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। এসব আসামির মধ্যে রয়েছে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, দীপু মনি, আমির হোসেন আমু, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এবং প্রাক্তন আমলা ও পুলিশ কর্মকর্তারা।
রোববার (১৯ জুলাই) কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে নিয়ে আসা এই আসামিরা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সামনে উপস্থিত হন। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে এসব মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ৪৫ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দেয়, যাদের মধ্যে অনেকেই ভারত পালিয়ে গেছেন। এর মধ্যে আনিসুল হক, সালমান এফ রহমান, জুনাইদ আহমেদ পলকসহ ১৬ জনকে ইতোমধ্যে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছিল।
আসামিদের তালিকায় আরও আছেন আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী ফারুক খান, দীপু মনি, আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, কামাল আহমেদ মজুমদার, গোলাম দস্তগীর গাজী, কামরুল ইসলাম, সাবেক উপদেষ্টা তৌফিক-ই ইলাহী চৌধুরী, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক এবং সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।
গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল জুলাই-আগস্টের গণহত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত দুই মামলার তদন্ত দুই মাসের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দেয়, যাদের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ মোট ৪৬ জন রয়েছেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচার গুলি চালানোর ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রীসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে বিচার চলছে। ওই আন্দোলনের মধ্যেই ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের ১৫ বছরের শাসন অবসান ঘটে। এরপর নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি জুলাই-আগস্টের গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়া শুরু করে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে গণহত্যা, হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।


