বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, প্রতারণা এবং মানিলন্ডারিংয়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মামলায় বলা হয়েছে, তিনি ঘুষ হিসেবে প্রায় ৩ কোটি ৭৬ লাখ ২৯ হাজার টাকা গ্রহণ করেছেন এবং অবৈধভাবে ৩ লাখ ৬১ হাজার মার্কিন ডলার ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে আনার সুযোগ করে দিয়েছেন।
গতকাল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করে এবং আজ তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৬১, ১৬৫-এ, ৪২০, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ৪(২) ধারা অনুযায়ী মামলা করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, শিবলী রুবাইয়াত ঘুষ গ্রহণের মাধ্যমে ভুয়া পণ্য বিক্রয়ের চুক্তি তৈরি করে অর্থপাচারের কৌশল নিয়েছিলেন। তিনি প্রায় ১ কোটি ৯২ লাখ টাকা ঘুষ নেন এবং ১ কোটি ৮৪ লাখ ২৮ হাজার ৮২০ টাকা ভুয়া রপ্তানি দেখিয়ে গ্রহণ করেন। তার বিরুদ্ধে শেয়ারবাজার কারসাজির অভিযোগও রয়েছে, যেখানে তার সহায়তায় একটি শক্তিশালী চক্র গড়ে ওঠে।
তার সময়েই শেয়ারবাজারে নানা অনিয়ম বৃদ্ধি পায়, বিশেষ করে মিউচুয়াল ফান্ডের অর্থ লুটপাটের ঘটনায় তিনি অভিযুক্ত। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বাজার নিয়ন্ত্রণের বদলে কারসাজিকারীদের প্রশ্রয় দিয়েছেন এবং নীরব ভূমিকা পালন করেছেন।
সরকার ইতোমধ্যে শিবলী রুবাইয়াত ও তার ছেলে জুহায়ের সারার ইসলামের ব্যাংক হিসাব স্থগিত করেছে এবং তাদের সব বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়েছে। গত ২৫ জানুয়ারি, সরকার শেয়ারবাজার লুটপাটে সহায়তার অভিযোগে বিএসইসির সাবেক ও বর্তমান ৯ কর্মকর্তার পাসপোর্ট বাতিল করে এবং তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেয়। অর্গানাইজড ক্রাইম অ্যান্ড করাপশন রিপোর্টিং প্রজেক্টের (ওসিসিআরপি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিলিয়ন ডলারের একটি জালিয়াতির ব্যাংক হিসাব থেকে শিবলী রুবাইয়াতের কাছে অর্থ এসেছে। এ লেনদেনের সঙ্গে তার বন্ধু জাভেদ মতিনের নাম জড়িত রয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত ২০২০ সালে বিএসইসির চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। এর আগে তিনি সাধারণ বীমা করপোরেশনের (এসবিসি) চেয়ারম্যান ছিলেন। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত চলছে, যা বাংলাদেশের শেয়ারবাজারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে উঠতে পারে।


