রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি একাধিকবার অবস্থান পরিবর্তন করেছেন বলে জানা গেছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নজরদারির মধ্যে থাকার বিষয়টি বুঝতে পেরে শিরীন শারমিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অন্তত চারবার বাসা পরিবর্তন করেন। প্রতিবারই তিনি ঘনিষ্ঠদের সহায়তায় নতুন ঠিকানায় গোপনে অবস্থান নেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গতকাল বুধবার বিকালে জানান, ডিবি পুলিশ তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তিনি কিছু কথা বলেছেন। তার কথাগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
জিজ্ঞাসাবাদে শিরীন শারমিন দাবি করেছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর বেলজিয়াম পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ এবং যুক্তরাজ্যে পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গেও তার যোগাযোগ ছিল। তারা তাকে নানাভাবে রিফর্মড আওয়ামী লীগ গঠনে প্ররোচনা দিয়েছিলেন। শিরীন দাবি করেছেন, দুই নেতার কথায় তিনি সাড়া দেননি। এছাড়া আর কোনো বড় নেতার সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়নি।
ভারতে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনার সঙ্গে কোনো মাধ্যমে তার যোগাযোগ ছিল কি না জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, শেখ হাসিনার সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ ছিল না।
শিরীন শারমিন জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট সাবেক ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু গ্রেপ্তার হওয়ার পর তিনি ঘাবড়ে যান। তিনি গ্রেপ্তার আতঙ্কে ছিলেন। নতুন সরকার আসার পর তিনি আশায় ছিলেন হয়তো তাকে গ্রেপ্তার হতে হবে না। গ্রেপ্তার হওয়ার পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলে জিজ্ঞাসাবাদরত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
ডিবি জানিয়েছে, শিরীনের সঙ্গে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যেসব মধ্যম সারির নেতার যোগাযোগ ছিল, তাদের তালিকা করছে ডিবি। কার্যক্রম নিষিদ্ধ এই দলের সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছে ডিবি।
এর আগে একটি অভিযানে তাকে আটক করা হয়। বর্তমানে তাকে নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।


