চীন সফরে উষ্ণ অভ্যর্থনা পাচ্ছেন ড. ইউনূস, বাড়ছে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংযোগবাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আসন্ন চীন সফরকে ঘিরে দেশটির পক্ষ থেকে বিশেষ মর্যাদা ও উষ্ণ অভ্যর্থনা দেয়া হতে পারে। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে চীনের এই মনোভাব নতুন আঞ্চলিক সমীকরণ তৈরি করতে পারে।
হংকংভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আগামী ২৭ মার্চ হাইনান প্রদেশের বোয়াও ফোরামের উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দেবেন ড. ইউনূস। ২৮ মার্চ তিনি চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হবেন। এছাড়া, পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ে তার সম্মানে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে তাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করা হবে।
ড. ইউনূস এমন সময়ে বেইজিং সফরে যাচ্ছেন, যখন বাংলাদেশ-ভারত কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে। শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর ভারত আওয়ামী লীগ নেতাদের আশ্রয় দিলে দুই দেশের সম্পর্কে ফাটল দেখা দেয়। এরপর ভারতের সীমান্তে বেড়া নির্মাণ এবং মার্কিন গোয়েন্দা প্রধান তুলসী গ্যাবার্ডের বাংলাদেশ নিয়ে মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
চীন বরাবরই দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের নতুন সরকারকে স্বীকৃতি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা দিতে চীনের আগ্রহ এই ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতারই অংশ। ড. ইউনূসের সফরে চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। বাংলাদেশ বর্তমানে মোংলা বন্দর সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্পের জন্য চীনের বিনিয়োগ প্রত্যাশা করছে।
২০১৬ সালে বাংলাদেশ চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভে যোগ দেয়ার পর থেকে দেশটির সঙ্গে বেশ কিছু বড় প্রকল্পে বিনিয়োগ এসেছে। পদ্মা সেতু রেল সংযোগ, কর্ণফুলী টানেলসহ একাধিক প্রকল্পে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করেছে। তবে শেখ হাসিনার পতনের পর এসব সহযোগিতামূলক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা দেখা দেয়, যা এবার নতুন করে গতি পেতে পারে। এছাড়া, তিস্তা নদী প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। বাংলাদেশ ২০১৬ সালে তিস্তা নদীর ব্যবস্থাপনা ও পুনরুজ্জীবনের জন্য চীনের সহায়তা চেয়েছিল, যা ভারত ভালোভাবে নেয়নি। এবার এ প্রকল্প নিয়ে নতুন কোনো অগ্রগতি হলে তা বাংলাদেশ-ভারত-চীন সম্পর্কের নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, চীন হয়তো ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারকে আশ্বাস দেবে, তবে আগামী নির্বাচনের জন্য দীর্ঘমেয়াদী প্রতিশ্রুতি দিতে সতর্ক থাকবে। তবুও এই সফর বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে এবং ভবিষ্যতে চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর হতে পারে।


