রাজধানীর মিন্টো রোডে অবস্থান কর্মসূচি থেকে সরে এসেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার আশ্বাসের পর বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি স্থগিত করেন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক আব্দুল হান্নান মাসউদের নেতৃত্বে শিক্ষার্থীরা বাংলামোটর থেকে মিন্টো রোডের উদ্দেশে রওনা দেন। পুলিশের বাধায় রাত পৌনে ১টার দিকে তারা রাস্তার ওপর বসে পড়েন। পরে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সেখানে উপস্থিত হয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন।
আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারে থাকাকালে ১৬ বছরে অনেককে রাজনৈতিকভাবে অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল। বেশিরভাগ অস্ত্রই পুলিশ জব্দ করেছে, তবে লুট হওয়া অস্ত্রের কিছু উদ্ধার সম্ভব হয়নি, যা এখন জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহারের চেষ্টা চলছে।” তিনি আরও জানান, পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তি বিভিন্ন উৎস থেকে বাংলাদেশে অস্ত্র প্রবেশ করিয়ে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে এ সংক্রান্ত তথ্য রয়েছে।
অস্ত্র উদ্ধারে নতুন অভিযান পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসিফ বলেন, “যৌথবাহিনীর অভিযান আরও কার্যকরভাবে পরিচালিত হবে। জনগণের জন্য হুমকিস্বরূপ অস্ত্রগুলো দ্রুত উদ্ধার করা হবে। সরকার এর দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করবে।” তিনি আন্দোলনকারীদের অনুরোধ করেন অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করতে। পরে শিক্ষার্থীরা মিন্টো রোড ছেড়ে চলে যান।
এর আগে, আন্দোলনের প্রধান সংগঠক আব্দুল হান্নান মাসউদ ফেসবুকে লেখেন, “আমার জন্মভূমি হাতিয়ায় সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলীর বাসা থেকে ছাত্রদের ওপর গুলি চালানো হয়েছে। প্রশাসন থাকলেও সন্ত্রাসীদের হাতে অস্ত্র আছে। আমি যাচ্ছি, হয় জন্মভূমি নয় মৃত্যু।” তিনি আরও দাবি করেন, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে তারা দাবি জানাবেন যে, রাতের মধ্যেই সব অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে।
আন্দোলনকারীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার অস্ত্র উদ্ধারে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে।


