Tuesday, January 20, 2026
Home অর্থ-বানিজ্য আইএমএফের ঋণ কর্মসূচিতে খুশি বিএনপি-জামায়াত

আইএমএফের ঋণ কর্মসূচিতে খুশি বিএনপি-জামায়াত

ঢাকা সফরে আসা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) মিশন জানিয়েছে, বাংলাদেশে তাদের ঋণ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী অত্যন্ত ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে আইএমএফ মিশনের প্রধান ক্রিস পাপাজর্জিও এ তথ্য জানান। আইএমএফ তাদের ঋণের পরবর্তী কিস্তি রাজনৈতিক সরকার গঠনের পর ছাড় করতে চায় মর্মে অর্থ উপদেষ্টা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের মন্তব্যের পর সংস্থাটির পক্ষ থেকে এমন বার্তা এলো।

ঢাকায় ১৩ দিনের সফর শেষে ভার্চুয়াল মাধ্যমে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে আইএমএফ মিশনপ্রধান বলেন, তারা বিএনপি এবং জামায়াত উভয় দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। আইএমএফের সংস্কার এজেন্ডা, দৃষ্টিভঙ্গি ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নির্বাচন ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক পরিবর্তন প্রক্রিয়া, দলের অগ্রাধিকার এবং সেগুলো কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে–এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। রাজনৈতিক দলগুলো আইএমএফের ঋণ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার বিষয়ে খুবই ইতিবাচক মত প্রকাশ করেছে।

বাংলাদেশের বর্তমান ৮ শতাংশের বেশি মূল্যস্ফীতিকে ‘ভয়াবহ’ হিসেবে বর্ণনা করে মিশনপ্রধান বলেন, যদিও এটি দুই বছর আগের দুই অঙ্ক থেকে কিছুটা কমেছে, তবুও এ হার অনেক বেশি। বিশেষত নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর জন্য উচ্চ মূল্যস্ফীতি অনেক কষ্টের। আইএমএফের পরামর্শ হচ্ছে, মূল্যস্ফীতি ৫ থেকে ৬ শতাংশে নামিয়ে আনা পর্যন্ত কঠোর বা সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি বজায় রাখা হোক।

আইএমএফ মিশনের বিবৃতিতে বলা হয়, চলতি অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি দাঁড়াবে ৮ দশমিক ৮ শতাংশ। আগামী অর্থবছর শেষে তা সাড়ে ৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে। তবে নীতি বাস্তবায়নে বিলম্ব হলে বা দুর্বলতা থাকলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে, মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে এবং সামষ্টিক-আর্থিক স্থিতিশীলতা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

মিশনের পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, বাংলাদেশ সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে কম রাজস্ব, আর্থিক খাতের ঝুঁকি এবং উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি দেশের অর্থনীতিকে এখনও কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে রেখেছে। এ অবস্থায় রাজস্ব আদায় বাড়ানো ও আর্থিক খাতে সংস্কারের মাধ্যমে টেকসই প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারে।
মিশনের বিবৃতিতে ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে বলা হয়েছে, দুর্বল ব্যাংকগুলো পুনর্গঠনে একটি জাতীয় কৌশল নিতে হবে। এর আওতায় ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতির সঠিক হিসাব, সরকারি সহায়তার পরিধি নির্ধারণ এবং আইনি কাঠামোর মাধ্যমে পুনর্গঠন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত এবং বেসরকারি খাতের দুর্বল ব্যাংকগুলোর সম্পদের মান যাচাই এবং খেলাপি ঋণ আদায়ে ব্যবস্থাপনা জোরদার করতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

ঢাকায় বাড়িভাড়া নিয়ে বড় সুখবর

প্রতি বছরের শুরুতে ঢাকা শহরে বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধির প্রবণতা ঠেকাতে ২ বছরের আগে ভাড়া না বাড়ানোর নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। পাশাপাশি...

প্রতারণা মামলায় ফের কারাগারে ইভ্যালির রাসেল ও শামীমা

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) আবারও ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ইভ্যালির শীর্ষ দুই কর্মকর্তা—চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ রাসেলকে গ্রেফতার...

টবি ক্যাডম্যানের পদত্যাগের খবর ভিত্তিহীন বলে দাবি চিফ প্রসিকিউটরের

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের বিশেষ পরামর্শক পদ থেকে ব্রিটিশ আইনজীবী টবি ক্যাডম্যানে পদত্যাগের খবর সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। সোমবার...

সেবা সংক্রান্ত অভিযোগ ও এর অগ্রগতি ট্র্যাক করা যাচ্ছে বিকাশ অ্যাপেই

এখন বিকাশ অ্যাপ থেকেই গ্রাহক নিজেই বিকাশ টু ব্যাংক, সেভিংস, মোবাইল রিচার্জ ও পে বিল সেবা সংক্রান্ত অভিযোগ জানাতে পারবেন সহজেই। অভিযোগ জানানোর প্রক্রিয়া...

Recent Comments